ওসি মান্নানকে রক্ষায় বকুল ও মান্নানের নীল-নকশা

তানজিলা লিপি:

ফতুল্লার সাবেক ওসি আবদুল মান্নানকে রক্ষায় ধর্ষণ মামলার সাজাপ্রাপ্তসহ একাধিক মামলার আসামি চিহ্নিত প্রতারক মান্নান ভুইয়া ও হলুদ সাংবাদিক বকুল অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সঙ্গে সখ্যতার অপচেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে একাধিক ভুক্তভোগী।

সিদ্ধিরগঞ্জ আইলপাড়া এলাকার ঠেলাগাড়ি চালক আঃ হান্নান মিয়ার ছেলে আঃ মান্নান ১৩ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে ১০ বছর সাজাপ্রাপ্তসহ মানবকল্যাণের নামে ব্যাপক দুর্নীতি, প্রতারণা, হত্যা, চুরি, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি প্রতারক মান্নান ভুইয়া ও হলুদ সাংবাদিক বকুল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বে থাকা সোহেল রানার সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করে ফতুল্লা থানার সাবেক ওসি আবদুল মান্নানকে রক্ষায় অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জনমনে প্রশ্ন—১৩ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে ১০ বছর সাজাপ্রাপ্ত এবং প্রতিবন্ধী অসহায় মহিলাকে জমিসহ ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে লাখ টাকা আত্মসাৎসহ প্রতারণা, চাঁদাবাজি, হত্যা মামলার আসামি কীভাবে একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে ছবি পোস্ট করে নিজেকে পুলিশ সুপার সোহেল রানার বন্ধু পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন থানায় তদবির বাণিজ্য করে?

উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে শারীরিক নির্যাতন করে এই হত্যা মামলার একটি চক্র। ঘটনার দিন ফতুল্লা থানা পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও ভুক্তভোগী পরিবার কোনো আইনগত সহায়তা পায়নি। কারণ হিসেবে জানা গেছে, সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও চিহ্নিত প্রতারক আঃ মান্নান বিভিন্ন থানায় গিয়ে ওসি, তদন্ত ওসি এবং এসআইদের পরিচয় দেয় বাটপার মান্নান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল রানা, এসপি ও ডিসির কাছের লোক। তাহলে এখন প্রশ্ন জাগে—অপহরণের ঘটনায় শতভাগ সত্যতা পাওয়ার পরও ফতুল্লা থানার সাবেক ওসি আব্দুল মান্নান ভুক্তভোগীর মামলা কেন রুজু করেননি? এর বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী সংগঠক এসপি ও ডিআইজির নিকট বিচারের আবেদন করেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফতুল্লা থানার সাবেক ওসি আব্দুল মান্নান, হত্যা মামলাসহ ধর্ষণ মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি প্রতারক মান্নান ভূঁইয়া গংদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে থানায় মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচারের স্বার্থে ডিআইজি ঢাকা রেঞ্জ বরাবর ওসি আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। যার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সোহেল রানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ট্রাফিক বিভাগ, নারায়ণগঞ্জকে। ফতুল্লার সাবেক ওসি আব্দুল মান্নানকে রক্ষায় এই কৌশল অবলম্বন করেছে প্রতারক মান্নান।

প্রতারক মান্নানের মামলার তালিকা: সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ধর্ষণ মামলা নং ১৭৪/৬—এই মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত। সিআর-৯৭/২৪, সিআর-২২৫/২৫, সিআর-৭৫০/২৫, সিআর-১৩/২৬, ফতুল্লা থানা মামলা ০১(১২)২৪, যাত্রাবাড়ী থানা হত্যা মামলা ৪৩(১০)২৫। তাছাড়া বিভিন্ন থানায় একাধিক জিডি, ডিসি ও এসপি অফিসে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সরকারি অনুদানের কথা বলে প্রতিবন্ধীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ টাকা। সবচেয়ে বড় কথা হলো—ফৌজদারি অপরাধে ১০ বছরের দণ্ডিতসহ একাধিক মামলার আসামির সঙ্গে একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার সখ্যতার রহস্য কী?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *