কক্সবাজার শহরে অবৈধ বাস কাউন্টারের দৌরাত্ম্য: যানজট, ভোগান্তি ও প্রশাসনিক নীরবতা

মোহাম্মদ হোসেন সুমন:

দেশের অন্যতম পর্যটননগরী কক্সবাজারে দিন দিন বাড়ছে অনুমোদনবিহীন বাস কাউন্টারের সংখ্যা। শহরের জিয়া গেস্ট হাউস এলাকা থেকে কলাতলী ডলফিন মোড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ কাউন্টার এখন নগরবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থাকা সত্ত্বেও একাধিক পরিবহন-সংশ্লিষ্ট চক্র শহরের অভ্যন্তরে যত্রতত্র কাউন্টার স্থাপন করে যাত্রী উঠানামা করাচ্ছে। এতে করে সড়কে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচল।

যানজট ও জনদুর্ভোগ চরমে
অবৈধ কাউন্টারগুলোর কারণে শহরের ভেতরে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী বাসগুলো নির্ধারিত নিয়ম মানছে না। ফলে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রী, পথচারী ও পর্যটকদের ওপর। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।

জরুরি সেবায় মারাত্মক বিঘ্ন
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনিয়ন্ত্রিত কাউন্টারের কারণে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে, যা মানবিক সংকট তৈরি করছে।

টার্মিনাল এড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগ
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, কিছু অসাধু পরিবহন ব্যবসায়ী নির্ধারিত বাস টার্মিনালে কাউন্টার না খুলে শহরের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে কাউন্টার পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও বেশি যাত্রী সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছে।

প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
এলাকাবাসীর দাবি, এসব অবৈধ কার্যক্রমের পেছনে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে ট্রাফিক বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

সচেতন মহলের দাবি
সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের মতে, কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন শহরে এমন বিশৃঙ্খলা অগ্রহণযোগ্য। দ্রুত অবৈধ বাস কাউন্টার উচ্ছেদ, নির্ধারিত টার্মিনাল ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা আরোপ এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কক্সবাজারের পর্যটন ভাবমূর্তি রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে এখনই সময় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার। অন্যথায় অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের এই চক্র আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কাই করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *