মোঃ আনজার শাহ:
কয়েক দিনের টানা কালবৈশাখী ঝড় ও অবিরাম বর্ষণে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রবল ঝড়ে বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর গাছপালা ভেঙে পড়ায় পুরো উপজেলাজুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিদ্যুৎহীনতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার লক্ষাধিক বাসিন্দা। একই সঙ্গে ঝড়ের তাণ্ডবে বহু পরিবারের বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই মানবিক বিপর্যয়ে গভীর উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আন্তরিক বিবৃতিতে তিনি বলেন, টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উপজেলাবাসী যে অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা তিনি গভীরভাবে অনুভব করছেন।
মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের জনবল-স্বল্পতা এবং বৈরী আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ক্ষতিগ্রস্ত লাইনগুলো দ্রুত মেরামতের লক্ষ্যে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন। তিনি আরও জানান, মাঠপর্যায়ের বিদ্যুৎকর্মীরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন; তবে অতিবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে অনেক স্থানে মেরামতকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের আরও জানান, উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি প্রতিষ্ঠান জনদুর্ভোগ লাঘবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি উপজেলাবাসীর প্রতি ধৈর্য ধারণ ও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অতি শিগগিরই সমগ্র উপজেলায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে এবং জনজীবন সচল হবে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর বৈশাখ মাসে কালবৈশাখী ঝড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে আরও টেকসই ও দুর্যোগ-সহনশীল করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছেন।
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) ঋষি কুমার ঘোষ স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আনজার শাহকে জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানসহ তিনি নিজে বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন। নয়নতলা, গামারুয়া, মধ্য লক্ষ্মীপুর, ডিমরুল, জিনসার ও সাহারপদুয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ডিজিএম আরও জানান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বরুড়ার বিদ্যুৎ লাইন নিরাপদে ও দ্রুততার সঙ্গে মেরামত করার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন। মাননীয় মন্ত্রীর সেই নির্দেশনা অনুযায়ী পল্লী বিদ্যুতের কর্মীদল মাঠে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে গামারুয়া, জোয়াগ, মধ্য লক্ষ্মীপুর, ডিমরুল, জিনসার ও সাহারপদুয়াসহ উপজেলার সব এলাকায় অতি শিগগিরই বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।