এস এম কিবরিয়া করিম:
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযানের ফলে এলাকায় সক্রিয় মাদক চক্রগুলোর ওপর চাপ বেড়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে এই অগ্রগতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অন্তত তিনটি পৃথক অভিযানে ১৮৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ পাঁচজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব অভিযানে মহাসড়ক, সংযোগ সড়ক এবং পূর্বে চিহ্নিত স্পটগুলোকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়। ধারাবাহিক অভিযানের ফলে স্থানীয় মাদক চক্রের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিতে শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক এক অভিযানে এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ দুইজনকে আটক এবং ইয়াবা ও নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, মাদক নেটওয়ার্ক শুধুমাত্র অপরাধী চক্রেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সামাজিক স্তরেও বিস্তৃত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগের কারণ।
দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। “জিরো টলারেন্স নীতিতে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং চিহ্নিত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মাদক কারবারিদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না,” তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা একাধিক মাদক স্পট এখন প্রায় নিস্তব্ধ। রাতের বেলায় সন্দেহজনক চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ ফিরে আসছে।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে ওসি এবং পুলিশের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাদের মতে, এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া মাদক সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। তরুণদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প সামাজিক সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করাই হবে টেকসই প্রতিরোধের মূল ভিত্তি।
সব মিলিয়ে দশমিনায় চলমান এই অভিযান কেবল একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়; বরং এটি একটি সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা একসঙ্গে কাজ করলে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের সম্ভাবনা আরও দৃঢ় হবে।