মোঃ আনজার শাহ:
হাজারো মুমূর্ষু মানুষকে নতুন জীবন দিয়েছেন তিনি, কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র কিডনি রোগীরা যখন চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারেননি, তখন নিজের মেধা, শ্রম ও মানবতাকে পুঁজি করে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রফেসর ড. কামরুল ইসলাম। বিনামূল্যে প্রায় আট হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে যিনি আজ সারা দেশে ‘মানবিক ডাক্তার’ নামে পরিচিত, সেই মহান চিকিৎসক একদিন হঠাৎই হাজির হলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দরজায়।
আর তাঁকে দেখামাত্র যা ঘটল, তা শুধু একটি সরকারি সাক্ষাতের গল্প নয়—এ যেন মানবতার সাথে মানবতার এক বিরল মিলনের দৃশ্য।
যেভাবে জানা গেল এই হৃদয়ছোঁয়া ঘটনা
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব তাজুল ইসলাম তাঁর যাচাইকৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আবেগমাখা এক পোস্টে এই ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি লেখেন,
“প্রতিনিয়ত মানুষের সাথে মতবিনিময় হয়। মাঝেমধ্যে কিছু দিন আমার জন্য অনেক বেশি বিশেষ হয়ে ওঠে। গতকালের দিনটিও ছিল ঠিক তেমনই। হঠাৎ আমাদের মন্ত্রণালয়ে এসে হাজির হলেন ‘মানবিক ডাক্তার’ খ্যাত প্রফেসর ড. কামরুল ইসলাম, যিনি বিনামূল্যে প্রায় আট হাজার কিডনি রোগীর প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার করেছেন।”
মন্ত্রীর যে আচরণ মুগ্ধ করল সবাইকে
মো. তাজুল ইসলাম জানান, ড. কামরুলকে দেখামাত্র গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এমপি উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মানের সাথে অভ্যর্থনা জানান। এরপর অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে তাঁর সমস্যার পুরো কথা শোনেন এবং সময় নষ্ট না করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের নির্দেশ দেন।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। মন্ত্রী এরপর যা বললেন, তা উপস্থিত সবার হৃদয় স্পর্শ করে যায়।
“আপনার মতো মানুষ এই পৃথিবীতে বিরল”
মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন ড. কামরুলকে সরাসরি বলেন,
“আপনি মানুষের জন্য এত কিছু করছেন, দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন—আপনার জন্য সামান্য কিছু করতে পারলেও আমাদের দেশই উপকৃত হবে। আপনার মতো মানবিক মানুষ এই পৃথিবীতে সত্যিই বিরল।”
এ সময় মন্ত্রী রাষ্ট্র কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারার জন্য এই মহান চিকিৎসকের কাছে আন্তরিকভাবে দোয়াও প্রার্থনা করেন।
রাজনৈতিক সচিব মো. তাজুল ইসলাম পোস্টে লেখেন, “মন্ত্রী মহোদয়ের এই কথাগুলো আমার হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কেটে গেছে।”
কে এই ‘মানবিক ডাক্তার’
প্রফেসর ড. কামরুল ইসলাম বাংলাদেশের চিকিৎসা জগতে এক অনন্য নাম। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রায় আট হাজার দরিদ্র ও অসহায় কিডনি রোগীর সফল প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন। অর্থের অভাবে যারা বেঁচে থাকার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন, তাদের কাছে তিনি যেন এক জীবন্ত আশার আলো। দেশ-বিদেশে তাঁর এই মানবিক কর্মকাণ্ড ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এবং সর্বমহলে তিনি ‘মানবিক ডাক্তার’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ড. কামরুলের উত্থাপিত সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা মন্ত্রীর সংবেদনশীল আচরণ এবং ড. কামরুলের মানবসেবার প্রতি ব্যাপক সাধুবাদ জানাচ্ছেন।