কাদা মাড়িয়ে বৃক্ষরোপণে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, ‘কংক্রিট নয়,প্রাণবন্ত নগরী গড়তে চায় সরকার’

মোঃআনজার শাহ :-

মুষলধারে বৃষ্টি। চারদিকে কাদা আর ভেজা পথ। তবুও থেমে থাকেনি কর্মসূচি। রাজধানীর উপকণ্ঠে গড়ে ওঠা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমধর্মী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী ।

বুধবার (১৩ মে) দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করে । সকাল থেকেই ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত চললেও পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করা হয়নি। বরং বৃষ্টিভেজা প্রকৃতির মাঝেই পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন এলাকায় নেমে পড়েন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও রাজউকের কর্মকর্তারা।

ছাতা সরিয়ে, প্যান্ট গুটিয়ে, কাদা মাড়িয়ে তারা বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ, ঔষধি ও দুর্লভ গাছের চারা রোপণ করেন। শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, চারাগুলোতে পানি দেওয়ার পাশাপাশি সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনাও দেন তারা।

বৃক্ষরোপণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, পূর্বাচলকে কেবল আবাসননির্ভর কংক্রিট নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারের নেই। এটিকে একটি প্রাণবন্ত, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “নাগরিকদের জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা, নির্মল পরিবেশ ও সবুজ বেষ্টনী নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বর্ষাকাল বৃক্ষরোপণের সবচেয়ে উপযোগী সময় হওয়ায় বৃষ্টি আমাদের কর্মসূচিকে থামাতে পারেনি।”

মন্ত্রী আরও জানান, আজ যে গাছগুলো রোপণ করা হয়েছে, সেগুলো ভবিষ্যতে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং নগরবাসীর সুস্থ জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সমন্বিত সবুজায়ন। তিনি রাজউক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “গাছ লাগানোই শেষ কথা নয়, প্রতিটি গাছের সুরক্ষা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।”

প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের এমন ব্যতিক্রমী অংশগ্রহণ পূর্বাচল প্রকল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, পরিকল্পিত সবুজায়ন বাস্তবায়িত হলে পূর্বাচল ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম পরিবেশবান্ধব আধুনিক নগরীতে পরিণত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *