মোহাম্মদ হোসেন সুমন:
বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে জরুরি ভিত্তিতে একটি আধুনিক ৪০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের দাবি জানিয়েছে “ভয়েস অব কক্সবাজার ভলান্টিয়ার্স”সহ জেলার সর্বস্তরের স্বেচ্ছাসেবী ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বরাবর প্রেরিত এক স্মারকলিপিতে বলা হয়, নদ-নদী, পাহাড় ও বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতবেষ্টিত কক্সবাজার বর্তমানে প্রায় ৪৫ লক্ষাধিক মানুষের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২৯ লক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা, ১৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং বিভিন্ন মেগা প্রকল্প ও পর্যটন খাতে কর্মরত দেশি-বিদেশি বিপুল সংখ্যক মানুষ।
স্মারকলিপিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উল্লেখ করা হয়, এত বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার প্রধান সরকারি ভরসাস্থল কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার নেই। ফলে জটিল কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীদের বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকায় চিকিৎসা নিতে যেতে হচ্ছে। দীর্ঘ পথযাত্রা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে প্রতিনিয়ত অসংখ্য পরিবার চরম মানবিক সংকটে পড়ছে।
এতে আরও বলা হয়, উপকূলীয় অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং সচেতনতার অভাবে কিডনি রোগ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০ জন কিডনি রোগী কক্সবাজার সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসছেন এবং প্রতি সপ্তাহে শতাধিক নতুন রোগী ডায়ালাইসিসের প্রয়োজনীয়তায় যুক্ত হচ্ছেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পসমূহে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতায় কিডনি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে বছরে লাখো পর্যটক ও মেগা প্রকল্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলো হলো—
১. কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ৪০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন।
২. প্রয়োজনীয় সংখ্যক নেফ্রোলজিস্ট, ডায়ালাইসিস টেকনিশিয়ান ও বিশেষায়িত নার্স নিয়োগ।
৩. সরকারি বাজেট অথবা আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন WHO, UNHCR ও IOM-এর যৌথ অর্থায়নে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমানে বেসরকারি ক্লিনিকে প্রতি সেশন ডায়ালাইসিসে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা ব্যয় হওয়ায় প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের পক্ষে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে একটি সরকারি ডায়ালাইসিস সেন্টার প্রতিষ্ঠা এখন কক্সবাজারবাসীর জন্য জীবন-মরণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
“ভয়েস অব কক্সবাজার ভলান্টিয়ার্স”-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ও মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করে বলা হয়, সরকারের একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হাজারো অসহায় মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে।