মোঃআনজার শাহ
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার পশ্চিম পদুয়ার পাড় গ্রামের সওদাগর পরিবার তাঁদের প্রয়াত পিতা, মাতা ও বড় ভাইয়ের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় কবরস্থান, মাদ্রাসা ও ঈদগাহ মাঠের জন্য জমি ওয়াকফ করে দিয়েছেন, যা পুরো এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
ঈদ-উল-আযহার এই পুণ্যময় সময়ে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার পশ্চিম পদুয়ার পাড় গ্রাম থেকে ভেসে আসছে এক মানবিক উদারতার আলোকিত গল্প। প্রয়াত পিতা-মাতা ও বড় ভাইয়ের রুহের শান্তি ও মাগফিরাত কামনায় এলাকার পরিচিত মুখ মোহাম্মদ বাবুল হোসেন সওদাগর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কবরস্থান, মাদ্রাসা ও ঈদগাহ মাঠের জন্য জমি ওয়াকফ করে দিয়েছেন।
পরিবারটির তিনজন প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা বুকে নিয়েই তাঁরা বেছে নিয়েছেন সদকায়ে জারিয়ার পথ। গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইন্তেকাল করেন পরিবারের মুরব্বি মরহুম হাজী মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তারও আগে, ০৩ জুলাই ২০২৫ তারিখে বিদায় নিয়েছিলেন পরিবারের স্নেহময়ী মাতা মরহুমা আনোয়ারা বেগম। পরিবারের আরেক সদস্য মরহুম সেকান্দর আলীও পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত আছেন।
এই তিনজনের স্মরণে এবং তাঁদের আত্মার শান্তির জন্য বাবুল হোসেন সওদাগর ও পরিবারের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পার্থিব সম্পদের চেয়ে পরকালের পুণ্যই হোক তাঁদের শেষ উপহার। সেই লক্ষ্যে তাঁরা মাতা মরহুমা আনোয়ারা বেগমের নামে ঈদগাহ মাঠ ওয়াকফ করেছেন এবং পিতা মরহুম হাজী মোহাম্মদ কামাল হোসেনের নামে কবরস্থান ও মাদ্রাসার জন্য জমি ওয়াকফ করেছেন।
মরহুম হাজী কামালের বড় ছেলে মোহাম্মদ নিজামুল হাসান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমার বাবা সারাজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন, আল্লাহর পথে চলেছেন। তিনি চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর কীর্তি যেন থেকে যায়, তাঁর জন্য প্রতিদিন দোয়া হয়, এই আশায় আমরা এই জমি আল্লাহর রাস্তায় দান করেছি। আমি দেশবাসীর কাছে আমার বাবার জন্য জান্নাতুল ফেরদাউসের দোয়া চাই।”
মোহাম্মদ বাবুল হোসেন সওদাগর বলেন, “আমার পিতা, মাতা ও বড় ভাই এই তিনজনকে একে একে হারিয়েছি। তাঁদের ছাড়া পৃথিবী যেন শূন্য মনে হয়। কিন্তু আমরা চাই, তাঁদের রুহ যেন ওপারে শান্তিতে থাকেন। তাই আমরা মায়ের নামে ঈদগাহ মাঠ ওয়াকফ করে দিয়েছি প্রতি ঈদে যখন এখানে নামাজ হবে, মায়ের আত্মায় পৌঁছাবে সেই পুণ্য। বাবার নামে কবরস্থান ও মাদ্রাসার জমি ওয়াকফ করেছি প্রতিটি জানাজা, প্রতিটি আজান, প্রতিটি কোরআনের আওয়াজ যেন তাঁর কবরে নূর হয়ে পৌঁছায়। আমাদের কাছে এর চেয়ে বড় কোনো উপহার আর কী হতে পারে তাঁদের জন্য?”
তিনি আরও বলেন, “সম্পদ একদিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু সদকায়ে জারিয়ার পুণ্য কখনো শেষ হয় না। আমরা চাই, আমাদের পিতা-মাতার কবরে কেয়ামত পর্যন্ত পুণ্যের আলো পৌঁছাতে থাকুক। এই পথই আমাদের পরিবারের শান্তি।”
সওদাগর পরিবারের এই মহৎ উদ্যোগে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ধর্মপ্রাণ মানুষ থেকে শুরু করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলছেন এ যুগে এমন নিঃস্বার্থ ওয়াকফ বিরল এবং অনুকরণীয়।
