রোয়াংছড়ি স্টেশনে মাদকের স্বর্গরাজ্য: জিম্মি এলাকাবাসী, থানায় অভিযোগ দায়ের,
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:
বান্দরবান পৌরসভা এলাকার ২নং ওয়ার্ডের রোয়াংছড়ি স্টেশন এলাকায় হাত বাড়ালেই মিলছে মরণনেশা ইয়াবা, গাঁজা ও চোলাই মদ। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা তোয়াক্কা না করেই একদল চিহ্নিত অপরাধী এখানে গড়ে তুলেছে মাদকের সেফ জোন। আর এই মাদকের বিষাক্ত থাবায় ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে স্থানীয় যুবসমাজ, নষ্ট হচ্ছে সামাজিক পরিবেশ। মাদক কারবারিদের অত্যাচার ও নির্যাতনে বর্তমানে চরম অতিষ্ঠ ও আতঙ্কিত হয়ে দিন কাটাচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। এই অত্যাচার থেকে বাঁচতে এবং প্রতিকার চেয়ে এবার বান্দরবান সদর থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী।
নেপথ্যে দুই সহোদর রাসেল ও আরাফাত, থানায় অভিযোগ
অনুসন্ধানে ও থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রোয়াংছড়ি স্টেশন এলাকায় মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম মূল হোতা হিসেবে কাজ করছে ২ নম্বর ওয়ার্ডের রোয়াংছড়ি স্টেশন এলাকার সাইদুল হকের দুই ছেলে—১/ রাসেল ও ২/ আরাফাত।
তাদের অব্যাহত অত্যাচার ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে বান্দরবান সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ২ নং ওয়ার্ড রোয়াংছড়ি স্টেশন এলাকার বাসিন্দা রঞ্জিত বড়ুয়া ও সাজিদা বড়ুয়ার ছেলে রনি। অভিযোগে বিবাদী করা হয়েছে মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা এই দুই ভাই রাসেল ও আরাফাতকে।
অভিযোগকারী জানান, এই দুই সহোদরসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় যুবকের নিয়ন্ত্রণে এলাকায় দিন-রাত সমানতালে চলছে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের আসর। এলাকাবাসী জানান, এদের মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক এতোটাই শক্তিশালী যে, কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। কেউ মুখ খুললেই তার ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন ও হুমকি।
জিম্মি এলাকাবাসী, দ্রুত গ্রেফতারের দাবি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
”রোয়াংছড়ি স্টেশন এখন মাদকের সম্রাটদের অভয়ারণ্য। দিন দিন যুবসমাজ যেভাবে ধ্বংস হচ্ছে, তাতে আমরা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম আতঙ্কে আছি। দল-মত নির্বিশেষে আমরা এই মাদকচক্র থেকে মুক্তি চাই।”
থানায় অভিযোগ দায়েরের পর এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসীর জোর দাবি— অনতিবিলম্বে বান্দরবান সদর থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে রাসেল, আরাফাতসহ এই মাদক সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার করা হোক এবং রোয়াংছড়ি স্টেশন এলাকাকে চিরতরে মাদকমুক্ত ঘোষণা করা হোক।