মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি ফিলিং স্টেশনে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকা কালো রঙের একটি ব্যাগে কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া যায়নি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যাগটিতে বিস্ফোরক না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৬টার দিকে সোনারগাঁ থানাধীন কাঁচপুর ইউনিয়নের নয়াবাড়ি এলাকার ইউনাইটেড ফিলিং স্টেশনে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির একটি কালো রঙের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সারোয়ার এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় পুলিশ আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং ফিলিং স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, অজ্ঞাতনামা এক নারী ও এক পুরুষ সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ফিলিং স্টেশনের এক পাশে এসে নামেন। পরে তারা সেখানে ব্যাগটি রেখে কিছুক্ষণ পর সিএনজিযোগে স্থান ত্যাগ করেন।
ঘটনাটি সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার তাৎক্ষণিকভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীকে অবহিত করেন। ঘটনাস্থল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে হওয়া এবং ফিলিং স্টেশনের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যাগটি পরীক্ষা ও প্রয়োজনে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সহায়তা চাওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক মো. মোদাছসিরের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিশেষায়িত এই ইউনিট প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাগটি পরীক্ষা করে নিশ্চিত করে, এর ভেতরে কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য নেই।
পরে নিরাপদভাবে ব্যাগটি খুলে তল্লাশি চালিয়ে এর ভেতর থেকে মোছা. রেখা বেগম, স্বামী মো. মোশারফ সরকার এবং মো. মোশারফ সরকার, পিতা মো. আবু ছুফিয়ান সরকার, সর্বগ্রাম-মধুপুর, ডাকঘর-কল্যাণপুর, থানা-বেলকুচি, জেলা-সিরাজগঞ্জ—এই ঠিকানার দুইটি জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়।
এ ছাড়া ব্যাগের ভেতর মো. মোশারফ সরকারের ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স, ওই নারীর ব্যক্তিগত কাপড়, একটি ভ্যানিটি ব্যাগ এবং সমিতির টাকা জমা দেওয়ার বহিও পাওয়া যায়। এসব মালামাল জব্দ তালিকার মাধ্যমে জব্দ করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ব্যাগটি কারা এবং কী উদ্দেশ্যে ফিলিং স্টেশনে রেখে গিয়েছিল, তা তদন্ত করে বের করার চেষ্টা চলছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের শনাক্তের চেষ্টা করা হবে।
এদিকে, ব্যাগে বিস্ফোরক থাকার আশঙ্কায় ফিলিং স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের পরীক্ষার পর তা দূর হয়েছে। তবে ব্যাগ রেখে যাওয়ার ঘটনায় কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।