মোহাম্মদ সোহেল রানা:
অবশেষে আজ রবিবার (৭ জুন) দেশে প্রথমবারের মতো মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রামিসা হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে এত দ্রুত ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় হওয়ায় দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে বিচারকাজ সম্পন্ন করায় বিষয়টি ব্যাপকভাবে জনমনে সাড়া ফেলেছে।
রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এ মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আজ রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, সোহেল রানা শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করেছে, যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জবানবন্দিতে রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন সোহেল রানা। এ সময় তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন তাকে পালাতে সহযোগিতা করেন। এছাড়া আসামির দোষ স্বীকারোক্তির পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন করা হয়নি। ফলে আদালত উভয়কেই একই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন।
এর আগে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
গত বৃহস্পতিবার এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক মাসরুর সালেকীন ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
দেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, যার বিচারকাজ মাত্র চার দিনে সম্পন্ন হয়েছে। আলোচিত এ মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।