ঢাকা কাস্টমসের ঝাড়ুদার সৈয়দ আলী হঠাৎ কোটিপতি!

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের এক নৈশপ্রহরী, যার চাকরিজীবন শুরু হয়েছিল দৈনিক ২০০ টাকার ঝাড়ুদার হিসেবে, বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত, যদিও তার সরকারি পদ নিম্নপদস্থ কর্মচারীর।

তথ্য অনুসন্ধানে উঠে আসে যে, সৈয়দ আলী ওরফে সবুজ প্রথমে মতিঝিলের দিলকুশায় জীবন বীমা টাওয়ারে অবস্থিত ট্রাইব্যুনালে মাস্টাররোলে ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে স্থায়ীভাবে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে নৈশপ্রহরীর পদে নিযুক্ত হন। তবে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের কালুহাজী রোড এলাকায় তার পরিচিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে তিনি নিজেকে উচ্চপদস্থ কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে এলাকাবাসীর কাছে উপস্থাপন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকার সচেতন মহলের প্রশ্ন, কীভাবে দৈনিক ২০০ টাকা বেতনের ঝাড়ুদার থেকে পরবর্তীতে নৈশপ্রহরী হওয়া সৈয়দ আলী ওরফে সবুজ কোনো উপায়ে আলাদিনের চেরাগ পেয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেলেন?

স্থানীয় সূত্রের মতে, তার এই সম্পদের মধ্যে রয়েছে রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট এবং বিপুল পরিমাণ জমি। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কালুহাজী রোড এলাকায় রয়েছে দুটি দোতলা ভবন, একটি পাঁচতলা ভবন, ৬ কাঠা জমির ওপর একতলা পাকা দালান এবং ২০ কক্ষবিশিষ্ট টিনশেড ঘর। এছাড়া একই এলাকায় আরও একটি বহুতল ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে।

তথ্যসূত্রে আরও জানা যায়, শুধু নারায়ণগঞ্জেই নয়, ঢাকার রায়েরবাগে একটি মূল্যবান ফ্ল্যাট এবং রূপগঞ্জের গাউসিয়া এলাকায় প্রায় সাড়ে ৫ কাঠার একটি বাণিজ্যিক প্লটের মালিকানার তথ্যও পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, এসব সম্পদের মোট মূল্য অন্তত ১০ কোটি টাকা।

এলাকার সচেতন মহলের দাবি, মাত্র কয়েক বছর আগেও সৈয়দ আলী ওরফে সবুজ নারায়ণগঞ্জে ৮০০ টাকা মাসিক ভাড়ায় থাকতেন। কিন্তু ঢাকা কাস্টমসের চাকরির সুবাদে তিনি যেন সম্পদ অর্জনে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন। এত ছোট একটি পদে অল্প বেতনে চাকরি করে কীভাবে সৈয়দ আলী ওরফে সবুজ এত সম্পদের মালিক হতে পারেন—এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সিদ্ধিরগঞ্জের কালুহাজী রোড এলাকার মানুষের মধ্যে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কাস্টমস কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে এবং বিভিন্ন সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত হয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে সৈয়দ আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সচেতন মহলের দাবি, দুদক যদি সৈয়দ আলী ওরফে সবুজের সম্পদের সঠিক হিসাব-নিকাশ যাচাই করে, তাহলে অনেক অসঙ্গতি বেরিয়ে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *