মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, বিচারিক কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং পুলিশ ও বিচার বিভাগের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে ‘পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের উদ্যোগে জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে এম মহিউদ্দিন।
বক্তব্যে তিনি নারায়ণগঞ্জ ম্যাজিস্ট্রেসিকে আরও জনবান্ধব ও গতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন থানার ওসিদের আইনানুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে দক্ষতার সঙ্গে ত্রুটিমুক্তভাবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে অধিকসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে আসামি গ্রেপ্তার, সাক্ষী হাজিরকরণ এবং ফৌজদারি মামলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
কনফারেন্সে চলমান বিচারিক কার্যক্রম, মামলার তদন্ত ও নিষ্পত্তি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, সাক্ষী উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, বিচারপ্রার্থীদের সেবা বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বিচার ব্যবস্থার দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনসেবার মান উন্নয়নে পুলিশ ও বিচার বিভাগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কনফারেন্স পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। সভা শেষে বিচার বিভাগের বিভিন্ন নির্দেশনা ও সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল হুদা চৌধুরী, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূর মহসিন, মো. এম সাইফুল ইসলাম, সেলিনা খাতুন, মো. তামজিদ আহমেদ, মাইমুনাহ আক্তার মনি, এইচ এম ইয়াসির আরাফাত, নুসরাত মোস্তারী, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান, পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম আজাদ জাকির, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মশিউর রহমান শাহিন প্রমুখ।
এছাড়া মামলার জট নিরসনে আদালত সংশ্লিষ্ট সকলের ভূমিকা ও করণীয় উপস্থাপন করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তামজিদ আহমেদ। সমন জারি, গ্রেপ্তারি, হুলিয়া ও ক্রোকি পরোয়ানা তামিল বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল ইসলাম।