ঈদগাঁও উপজেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানা পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন মামলার এজাহারনামীয়, পরোয়ানাভুক্ত ০৩ জন আসামি ও চুরি হওয়া মালামালসহ ৩ জন আসামি গ্রেফতার।
ঘটনার বিবরণ: এজাহারদাতা খালেদ হোসাইন (৪২), পিতা- মোঃ ফরিদুল আলম, মাতা- দিল আরা বেগম, সাং- জাগিরপাড়া, ঈদগাঁও গরু বাজার, ০১নং ওয়ার্ড, ঈদগাঁও ইউপি, থানা- ঈদগাঁও, জেলা- কক্সবাজার এর বসতঘরের বারান্দার সামনে থেকে গত ০২/০৬/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ দিবাগত রাত অনুমান ০২.০০ ঘটিকা থেকে ভোর অনুমান ০৫.০০ ঘটিকার মধ্যে যে কোনো সময় আরএফএল কোম্পানির ০১টি ঘোরা মোটর (মূল্য অনুমান- ৭,০০০/- টাকা) এবং বাসার বৈদ্যুতিক মিটারের সংযোগের অনুমান ০৮ কয়েল তার, মূল্য- ৪৮,০০০/- (আটচল্লিশ হাজার) টাকা কে বা কারা চুরি করে নিয়ে যায়।
গত ০৬/০৬/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ ভোর অনুমান ০৫.৩০ ঘটিকার সময় জনৈক নাসির উদ্দিন (৩২), জাগিরপাড়া সাকিনস্থ জনৈক এনামুলের নির্মাণাধীন ভবন থেকে চোরচক্রের সদস্য মোঃ জাহেদুল ইসলাম সিফাত (১৯) ও মোঃ আরাফাত (২৪)–দ্বয়কে পুরাতন কালো রংয়ের ৮০ গজ বৈদ্যুতিক তারসহ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আটক করে। সংবাদ পেয়ে ঈদগাঁও থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায় এবং সেখানে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাপর আসামিগণসহ গত ০২/০৬/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাতে এজাহারদাতা খালেদ হোসাইন (৪২) এর বাড়ি থেকে পানি ওঠানোর মোটর ও বৈদ্যুতিক তার চুরি করার বিষয়ে স্বীকার করে এবং তাদের সঙ্গীয় পলাতক অপরাপর আসামিদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করে।
পরবর্তীতে আটককৃত আসামিরা ইতিপূর্বে চুরি করা মালামাল মোঃ ফারুক (৪৫), পিতা- মৃত গোলাম আকবর, মাতা- মৃত সায়েরা খাতুন, স্থায়ী সাং- নিজপানখালী, ০৭নং ওয়ার্ড, চকরিয়া পৌরসভা, থানা- চকরিয়া, জেলা- কক্সবাজার, বর্তমানে- জাগিরপাড়া, ঈদগাঁও গরু বাজার, ০১নং ওয়ার্ড, ঈদগাঁও ইউপি, থানা- ঈদগাঁও, জেলা- কক্সবাজার এর নিকট বিক্রি করেছে মর্মে জানায়। এসময় স্থানীয় লোকজনসহ বর্ণিত মোঃ ফারুকের ভাঙারী দোকানে অভিযান চালিয়ে চোরাই মালামাল—
(ক) আরএফএল কোম্পানির ০১টি ঘোরা মোটর,
(খ) ০১টি আগুন নির্বাপক যন্ত্র,
(গ) ০৪ সুতা পুরাতন লোহার রড অনুমান ০৬ কেজি,
(ঘ) পুরাতন স্টিলের ক্যাবল অনুমান ০৪ গজ,
(ঙ) বৈদ্যুতিক তার থেকে বাহির করা তামার তার ০২ কেজি— গত ০৬/০৬/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ বিকাল অনুমান ০৩.৩০ ঘটিকার সময় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত (ক) আরএফএল কোম্পানির ০১টি ঘোরা মোটর এজাহারদাতা খালেদ হোসাইন সনাক্ত করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামি:
১। মোঃ জাহেদুল ইসলাম সিফাত (১৯), পিতা- মৃত গিয়াস উদ্দিন, মাতা- কহিনুর আক্তার, সাং- চান্দেরঘোনা, ০৪নং ওয়ার্ড, ঈদগাঁও ইউপি, থানা- ঈদগাঁও, জেলা- কক্সবাজার।
২। মোঃ আরাফাত (২৪), পিতা- নুরুল হুদা, মাতা- রেনুন্নেচা, সাং- রাবারড্যাম, নুরুল হুদার বাড়ী, ০৩নং ওয়ার্ড, ইসলামাবাদ ইউপি, থানা- ঈদগাঁও, জেলা- কক্সবাজার।
৩। মোঃ ফারুক (৪৫), পিতা- মৃত গোলাম আকবর, মাতা- মৃত সায়েরা খাতুন, স্থায়ী সাং- নিজপানখালী, ০৭নং ওয়ার্ড, চকরিয়া পৌরসভা, থানা- চকরিয়া, জেলা- কক্সবাজার, বর্তমানে- জাগিরপাড়া, ঈদগাঁও গরু বাজার, ০১নং ওয়ার্ড, ঈদগাঁও ইউপি, থানা- ঈদগাঁও, জেলা- কক্সবাজার।
জব্দকৃত আলামত:
(ক) পুরাতন কালো রংয়ের ৮০ গজ বৈদ্যুতিক তার,
(খ) আরএফএল কোম্পানির ০১টি ঘোরা মোটর,
(গ) ০১টি আগুন নির্বাপক যন্ত্র,
(ঘ) ০৪ সুতা পুরাতন লোহার রড অনুমান ০৬ কেজি,
(ঙ) পুরাতন স্টিলের ক্যাবল অনুমান ০৪ গজ,
(চ) বৈদ্যুতিক তার থেকে বাহির করা তামার তার ০২ কেজি।
আইনি ব্যবস্থা: গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে ঈদগাঁও থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এজাহারনামীয় ও পরোয়ানাভুক্ত গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিবরণঃ
১। ঈদগাঁও থানার মামলা নং- ০৩/৪৮, তারিখ- ০২/০৫/২০২৬, ধারা- ৯(৪)(খ) শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ তৎসহ ৩২৩/৩২৬/৩৮০ পেনাল কোড মামলার একমাত্র এজাহারনামীয় আসামি মোঃ হোসাইন সোহেল রানা (৩৭), পিতা- মৃত দলিলুর রহমান, মাতা- ছকিনা বেগম, সাং- ভাদিতলা, ০৭নং ওয়ার্ড, ঈদগাঁও ইউপি, থানা- ঈদগাঁও, জেলা- কক্সবাজার।
২। সিআর- ৯০/২৩ (ঈদগাঁও), ধারা- ৪২০/৪৬৬/৪৬৮/৪৭১ পেনাল কোড মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি মোঃ বাবুল, পিতা- মৃত লাল মিয়া, সাং- পূর্ব নাপিতখালী, ডুলাফকির রাস্তার মাথা, ইসলামপুর ইউপি, থানা- ঈদগাঁও, জেলা- কক্সবাজার।
৩। কক্সবাজার সদর থানার মামলা নং- ২১, তারিখ- ১৬/০৭/২০০৫ খ্রিঃ, ধারা- ১৯৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯-এ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি বেলাল উদ্দিন, পিতা- মোঃ কালু প্রঃ নুরুল হক, সাং- পশ্চিম মোহন, জালালাবাদ, এ/পি থানা- ঈদগাঁও, জেলা- কক্সবাজার।
অপরাধ দমন এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঈদগাঁও থানা পুলিশ সর্বদা বদ্ধপরিকর। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। থানা এলাকার সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধী ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।