মোঃ মানিক:
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চরহোসেনপুর গ্রামে এক রাতে দুটি পরিবারের পাশাপাশি থাকা দুটি গোয়ালঘর থেকে ৬টি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় প্রায় ৬ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন দুই সহোদর ভাই।
সোমবার গভীর রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো রাত সাড়ে ১২টার দিকে গরুগুলোকে খাবার দিয়ে তারা ঘুমাতে যান। ভোরে ফজরের আজানের পর আব্দুল খালেক গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন, দরজার তালা খোলা। ভেতরে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান, তাঁর তিনটি গরুই নেই। পরে পাশের গোয়ালঘরে গিয়ে তাঁর ভাই আব্দুল মালেকও দেখতে পান, সেখান থেকেও তিনটি গরু চুরি হয়েছে।
চুরি যাওয়া গরুর মধ্যে আব্দুল খালেকের দুটি ষাঁড় ও একটি গাভি ছিল, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। অপরদিকে আব্দুল মালেকের একটি গাভি ও দুটি বকনা গরুর মূল্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। জানা গেছে, মালেকের গাভিটি কয়েক দিনের মধ্যেই বাচ্চা প্রসব করার কথা ছিল।
ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুল মালেক বলেন, “আমার ঘরটি খুবই জরাজীর্ণ। গাভিটি বাচ্চা দেওয়ার পর বিক্রি করে নতুন ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। গরু চুরি হয়ে যাওয়ায় সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে।”
অপর ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুল খালেক বলেন, “আমার ওপর ঋণের চাপ রয়েছে। একটি ষাঁড় গরু বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের আশা ছিল। এখন আমি চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি।”
পরিবারের সদস্যরা জানান, গরুগুলো তাদের জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন ছিল। দীর্ঘদিনের লালন-পালনের পর হঠাৎ এমন ঘটনায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে। তারা দ্রুত চোরচক্রকে শনাক্ত করে গরু উদ্ধার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে। চোরদের শনাক্ত এবং চুরি যাওয়া গরু উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।