বরুড়ায় পথ বন্ধ করে পরিবারকে অবরুদ্ধের অভিযোগ, স্কুলমুখী শিশুরাও বন্দিদশায়

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আড্ডা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ায় পরিবারটির সদস্যরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুলগামী শিশুরা, যারা নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে যেতে পারছে না।

ভুক্তভোগী ঝরনা বেগম (স্বামী: মাহিন উদ্দিন) জানান, বাব-দাদার আমল থেকে চারটি পরিবার একই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। সাবেক ও হাল দাগ অনুযায়ী বাড়ির মোট জমির পরিমাণ ৪৮ শতক, যার মধ্যে ২২ শতক জমি তাঁদের মালিকানাধীন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষরা বাড়ির একমাত্র প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া নির্মাণ করে চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে পরিবারটির সদস্যরা কার্যত গৃহবন্দি অবস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা দা, ছেনি ও লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করছেন এবং বিভিন্ন সময় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। এতে নারী ও শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ ঘটনায় মো. দুলাল হোসেন (পিতা: মৃত ফজর আলী), কমলা বেগম (স্বামী: মো. দুলাল হোসেন), রাশেদা বেগম (স্বামী: তরিকুল ইসলাম) এবং রসুজা বেগম (স্বামী: মো. আলম হোসেন)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা সবাই একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি জানার পর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মহিবউল্লাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা তাঁর অনুরোধ ও মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকেও আমলে নেননি।

পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় ভুক্তভোগী ঝরনা বেগম বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি বিষয়টি বরুড়া থানাকেও অবহিত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একটি পরিবারের স্বাভাবিক চলাচলের অধিকার বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবরুদ্ধ পরিবারের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *