রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ: স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ

 

আব্দুল গফুর কক্সবাজার

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন ধরনের স্থায়ী ও আধা-স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, অস্থায়ী আশ্রয়ের জন্য গড়ে তোলা ক্যাম্পগুলোতে ধীরে ধীরে স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি হলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনজীবনের ওপর।
সরেজমিনে ক্যাম্প-সংলগ্ন কয়েকটি এলাকায় কথা বলে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু স্থাপনায় কংক্রিটের ভিত্তি, টেকসই নির্মাণসামগ্রী এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের উপযোগী অবকাঠামো ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এসব স্থাপনা ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
উখিয়ার এক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রথমে বলা হয়েছিল আশ্রয়গুলো সম্পূর্ণ অস্থায়ী হবে। এখন যদি স্থায়ী ধরনের স্থাপনা তৈরি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।”
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ক্যাম্পে নির্মিত অনেক অবকাঠামোই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়। এগুলোকে স্থায়ী পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
মানবাধিকার ও শরণার্থী বিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছতা জরুরি। কোন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে, কী উদ্দেশ্যে হচ্ছে এবং এর মেয়াদ কতদিন—এসব তথ্য স্থানীয় জনগণকে জানানো হলে বিভ্রান্তি কমবে।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, রোহিঙ্গা সংকটের কারণে কক্সবাজারের পরিবেশ, বনভূমি ও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ রয়েছে। তাই ক্যাম্পে নতুন কোনো অবকাঠামো নির্মাণের আগে স্থানীয় জনগণের উদ্বেগ ও মতামত বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান হলো নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনিশ্চিত থাকায় ক্যাম্পে যেকোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে শঙ্কার জন্ম দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *