কেন্দুয়া থানার মামলার বাদী মাইনুল ইসলাম কে প্রতিপক্ষের হুমকি

নাছিমা খাতুন সুলতানা:

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের ওয়াই গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি মামলা এবং মামলার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও মামলার বাদী মো. মাইনুল ইসলাম এবং তার পরিবারের সদস্যরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় সূত্র ও মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গড়াডোবা ইউনিয়নের ওয়াই গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. মাইনুল ইসলাম কেন্দুয়া থানায় একটি মারামারির মামলা দায়ের করেন। মামলায় একই গ্রামের মো. সঞ্জু রহমানের ছেলে মো. উমর ফারুকসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও ৪ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১ জুন ২০২৬ (সোমবার) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে ফারুকের চাচাতো ভাই মো. এমদাদুল হক তার পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে ৭ শতাংশ জমি মাইনুল ইসলামের ভাই সেকুল মিয়ার কাছে বিক্রি করেন। পরে জমি মাপজোক করে বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এমদাদুল হক ও তার ভাই ফজুল মিয়া একজন আমিনসহ গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলে ডাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সময় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এরপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে নারীসহ অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হন।

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরিবার সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ওই ব্যক্তি এখনও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, জমি সংক্রান্ত এই বিরোধ এখন দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘাতে রূপ নিয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, আহতদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকার সুযোগে প্রতিপক্ষের সঞ্জু মিয়ার মেয়ে মোছা. কাকলী আক্তার কেন্দুয়া থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. মাইনুল ইসলামসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পাল্টাপাল্টি মামলা দায়েরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, বৈধভাবে অর্থের বিনিময়ে জমি ক্রয় করাই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল। তাদের অভিযোগ, জমি ক্রয়কে কেন্দ্র করেই পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং নারী সদস্যরাও হামলার শিকার হয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য,

“আমরা নিয়ম অনুযায়ী টাকা দিয়ে জমি কিনেছি। সেটাই কি আমাদের অপরাধ? জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। এখন আবার মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মাইনুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, মামলা প্রত্যাহার এবং আপসের জন্য তাদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তারা নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এলাকায় আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি হুমকির অভিযোগ এবং পাল্টাপাল্টি মামলার বিষয়েও প্রশাসনের বক্তব্য জানার চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *