কুবির বাংলা বিভাগ ও বাংলা একাডেমির আয়োজনে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু 

 

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগ ও বাংলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে ঔপন্যাসিক ও গল্পকার হাসান আজিজুল হক এবং সাহিত্যিক ও সম্পাদক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান স্মরণে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের সম্মেলন কক্ষে প্রথম দিনের সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম দিনের সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মহীবুল আজীজ। এছাড়াও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুবির বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার, বাংলা একাডেমির অফিসার শাহ্ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

সেমিনারে বক্তারা হাসান আজিজুল হকের সাহিত্যকর্ম, দর্শন, মানবতাবোধ ও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক  ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “হাসান আজিজুল হক বাংলা সাহিত্যের এমন একজন শক্তিমান লেখক, যিনি মানুষের জীবনসংগ্রাম ও সামাজিক বৈষম্য তাঁর গল্প-উপন্যাসে ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি কখনো সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য লেখেননি, বরং সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য লিখেছেন।”

সেমিনারের আলোচক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মহীবুল আজিজ বলেন, “আমি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলাম। পরবর্তীতে ভালো লাগা ও আগ্রহ থেকেই বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা শুরু করি। আমার বিশ্বাস, কোনো বিষয়ে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অধ্যয়ন করলে এবং সেই বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে গেলে সফল হওয়া সম্ভব।”

বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম মাওলা বলেন, “এম.এ. শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে আমার থিসিসের বিষয় ছিল হাসান আজিজুল হকের গল্প। তাঁর প্রথম প্রকাশিত ‘পাতালে হাসপাতালে’ গ্রন্থটির প্রথম সংস্করণের একটি কপি এখনও আমার ব্যক্তিগত সংগ্রহে সংরক্ষিত রয়েছে। একজন পাঠক ও গবেষক হিসেবে এটি আমার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ।”

তিনি আরো বলেন, “হাসান আজিজুল হক তাঁর অসাধারণ গল্প শৈলী, মানবজীবনের গভীর উপলব্ধি এবং সমাজবাস্তবতার অনন্য উপস্থাপনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী আসন লাভ করেছেন। তাঁর সাহিত্যকর্মই তাঁকে আজ সর্বজন পরিচিত ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।”

প্রথম দিনের সেমিনারের সভাপতি বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, “দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু হাসান আজিজুল হককে স্মরণ করা নয়, বরং তাঁর জীবন ও সাহিত্যকর্ম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। তিনি জীবনসংগ্রাম, সামাজিক বৈষম্য ও মানবিক সংকটকে সাহিত্যে অসাধারণভাবে তুলে ধরেছেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *