মোঃআনজার শাহ
কুমিল্লার বরুড়ায় মধুমাস জ্যৈষ্ঠের রসালো ফলের সুঘ্রাণ আর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বসিত হাসিতে ভরে উঠল এক ভিন্নধর্মী আয়োজন। বরুড়া রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংস্থার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো মাদ্রাসা ছাত্রদের নিয়ে প্রাণবন্ত ফল উৎসব, যা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
গত ২২ জুন বাদ মাগরিব বরুড়া পাঠানপাড়াস্থ শাফায়াতু নবী (সাঃ) হাফেজিয়া মাদানি মাদ্রাসার হলরুমে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে সংগঠনের সভাপতি আবু রিয়াজ নূরুদ্দিন খন্দকার স্বপন সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারাই দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি, যাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশের রিজার্ভ ও পরিবারগুলোর সচ্ছলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও বলেন, তাঁরা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, সমাজসেবার ক্ষেত্রেও অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন, যার বাস্তব প্রতিফলন আজকের এই ফল উৎসব। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন আয়োজন তাদের মাঝে আনন্দ ও অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে দেবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন এবং প্রবাসীদের এই মানবিক উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে অভিহিত করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান হাফিজ, বরুড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জহিরুল হক স্বপন, বরুড়া বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি মোঃ হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী, ওরাই আপনজন সামাজিক সংগঠনের সভাপতি ও বরুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াছ আহমেদ, বরুড়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান জাফরী, বরুড়া হাজী নোয়াব আলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী উদ্দিন এবং তলাগ্র চান্দলাহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ার হোসেন।
আরও উপস্থিত ছিলেন বরুড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, বরুড়া রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংস্থার সহসভাপতি সৈয়দ আবুল হাশেম, সাংবাদিক মুহিবুল্লাহ ভূঁইয়া বাবুল, বরুড়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন, মাওলানা মুহাম্মদ শাকিব হোসাইন ও মাওলানা মোহাম্মদ মোতালেব হোসেন মজুমদার প্রমুখ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মোঃ ইকরামুল হক। বক্তারা সকলেই এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং একে স্থানীয় সমাজের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে অভিহিত করেন। উৎসবের শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয় বিভিন্ন মৌসুমি ফল, যা উপস্থিত সকলের মন জয় করে নেয়।