১৩ দিনের ক্রেতা সংকট কাটতেই বেক্সিমকোয় বিক্রেতা উধাও, লেনদেন ছাড়াল ১০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর টানা ১৩ কার্যদিবস ধরে ক্রেতা সংকট ও দরপতনের মুখে থাকা বেক্সিমকোর শেয়ারে অবশেষে ফিরেছে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ। রোববার (২৮ জুন) লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম দৈনিক সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত বেড়ে যায়। একই সঙ্গে দেখা দেয় চরম বিক্রেতা সংকট।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগের কার্যদিবসগুলোর মতো দিনের শুরুতে বেক্সিমকোর বিপুল পরিমাণ শেয়ার সর্বনিম্ন দামে বিক্রির আদেশ আসে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই ক্রেতাদের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হলে শেয়ারটির দাম দ্রুত সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে যায়।

ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহে মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৯৬ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোম্পানিটির ১০২ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এ সময় প্রায় ২৭ লাখ শেয়ার সর্বোচ্চ দামে কেনার আদেশ জমা থাকলেও বিপরীতে বিক্রির আদেশের ঘর প্রায় ফাঁকা ছিল।

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর যা ঘটেছে

দেশের শেয়ারবাজারে প্রথম ফ্লোর প্রাইস চালু হয় ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময়, লাগাতার দরপতন ঠেকাতে। পরে ২০২১ সালে তা প্রত্যাহার করা হলেও, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিলে ২০২২ সালের জুলাইয়ে আবারও ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হয়।

পর্যায়ক্রমে প্রায় সব কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হলেও বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা বহাল ছিল। অবশেষে গত ৮ জুন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্ব এই দুই প্রতিষ্ঠানের ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়, যা ৯ জুন থেকে কার্যকর হয়।

এরপর ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার মাত্র দুই কার্যদিবসের দরপতনের পর ঘুরে দাঁড়ালেও, বেক্সিমকোর শেয়ার টানা ১৩ কার্যদিবস ক্রেতাশূন্য অবস্থায় পড়ে ছিল। এ সময়ে শেয়ারের দাম ১১০ টাকা ১০ পয়সা থেকে নেমে আসে ২৫ টাকা ৬০ পয়সায়। তবে রোববারের উত্থানে তা বেড়ে ৩১ টাকা ২০ পয়সায় পৌঁছেছে।

অতীতের উত্থান-পতনের ইতিহাস

একসময় বেক্সিমকোর শেয়ারের দাম ছিল মাত্র ১০ টাকা ৭৬ পয়সা (১৭ মার্চ ২০২০)। পরবর্তীতে ধারাবাহিক উত্থানে ২০২১ সালে তা ১৭৮ টাকা ৯৫ পয়সার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। পরে দরপতন শুরু হলে ১১০ টাকা ১০ পয়সা ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করে দীর্ঘদিন শেয়ারটির দাম স্থির রাখা হয়।

বর্তমানে বেক্সিমকোর মোট শেয়ার সংখ্যা ৯৪ কোটি ৩২ লাখ ৩৬ হাজার ২৬২টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩৩.১১ শতাংশ, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৩.৩৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩২.৫৯ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ০.৯৪ শতাংশ শেয়ার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *