কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কালুরঘাট–ভাণ্ডালজুড়ি সড়কে অবৈধ বালুবাহী ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলের কারণে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিনের এসব দুর্ঘটনায় হতাহত হওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁদের প্রশ্ন—আর কত প্রাণহানি হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগ ও প্রশাসন?
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরকার থেকে বেতন-ভাতা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করলেও বোয়ালখালীর গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতের সংখ্যা বাড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কালুরঘাট–ভাণ্ডালজুড়ি সড়কে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালুবাহী ট্রাক চলাচল করছে। এসব ট্রাকের বেপরোয়া গতি ও নিয়মবহির্ভূত চলাচলের কারণে সড়কটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি কধুরখীল জামতলা এলাকায় একটি বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে এক তরুণ নিহত হন এবং আরও একজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করা হলেও একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন, মজুদ ও পরিবহন অব্যাহত রয়েছে। ফলে অভিযানের সুফল স্থায়ী হচ্ছে না এবং ঝুঁকিপূর্ণ ট্রাক চলাচলও বন্ধ করা যাচ্ছে না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বালু মজুদ করে রাখায় যান চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভারী ট্রাকের অতিরিক্ত চাপের কারণে সড়কেরও ক্ষতি হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তাঁদের দাবি, অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, সড়কের পাশে অবৈধভাবে মজুদ করা বালু দ্রুত উচ্ছেদ এবং বালুবাহী ট্রাকের চলাচলে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত ট্রাফিক তদারকি ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে মানুষের জীবন রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বোয়ালখালীর এ সড়কে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।