ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাছ কেটে অবরোধ: মামলা হলেও বাদী-আসামির পরিচয় গোপন, রহস্যের গন্ধ

কামরুল ইসলাম:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সরকারি গাছ কেটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের দায়ের করা মামলায় ৮০ জনকে আসামি করা হলেও বাদী ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ না করায় ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও মামলার বাদী এবং গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হয়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক রায়ে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক লায়ন আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। রায়ের পরপরই বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

এর জেরে উপজেলার বড়দারোগারহাট, বাড়বকুণ্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়। পাশাপাশি কুমিরা, ভাটিয়ারি, সোনাইছড়াসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কয়েকটি স্থানে সরকারি গাছ কেটে মহাসড়কে ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়।

গাছ ফেলে মহাসড়ক অবরোধ করায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাটা গাছ সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।

ঘটনার পর রাতেই সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মোট ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, “সরকারি গাছ কেটে মহাসড়কে ব্যারিকেড দেওয়ার ঘটনায় সওজ কর্তৃপক্ষ ৮০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে। এ ঘটনায় আমরা দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তদন্তের স্বার্থে আপাতত বাদী ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আরও আসামিকে গ্রেপ্তার করা হবে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।”

তবে একটি মামলায় বাদী ও গ্রেপ্তার আসামিদের পরিচয় গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, মামলার তথ্য প্রকাশে পুলিশের এমন সংযমের কারণ কী—তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *