বিরুদ্ধে মামলা
স্টাফ রিপোর্টার
সরাইল উপজেলায় হামিমা আক্তার রিতা (১৯) নামে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে স্বামীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাকশিমূল ইউনিয়নের তেলিকান্দি গ্রামের হামিমা আক্তার রিতা ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ একই গ্রামের সাব্বির মিয়ার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকে সাব্বির মিয়াকে বিদেশে পাঠানোর জন্য বিভিন্ন সময় যৌতুক দাবি করা হয় এবং এ নিয়ে রিতাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।
নিহতের পরিবারের দাবি, মেয়ের সংসার রক্ষার স্বার্থে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয় করে সাব্বির মিয়াকে বিদেশে পাঠানো হয়। তবে প্রায় দুই মাস আগে দেশে ফেরার পর সাব্বির মিয়া স্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপমানজনক মন্তব্য ও কটূক্তি করতে থাকেন। এতে শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যরাও তাকে মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রাখতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, গত ৩০ জুন দুপুরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা রিতাকে নানা কটূক্তি করেন এবং আত্মহত্যার জন্য উসকানি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে রিতা নিজ বাড়িতে ফিরে পরিবারের অজান্তে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা জ্বলেকা বেগম বাদী হয়ে স্বামী সাব্বির মিয়া, শ্বশুর আব্দুল জিলানী, শাশুড়ি রব বানু এবং আফসার ও শরীফ মিয়াসহ পাঁচজনকে আসামি করে সরাইল থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে সরাইল থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।