কুমিল্লার বরুড়ায় জমি বিরোধের জেরে হামলা, কিরিচ-চাপাতির আঘাতে রক্তাক্ত ৪, লুট স্বর্ণালংকার

বরুড়া প্রতিনিধি  (কুমিল্লা):

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আরিফপুর গ্রামে জমি-সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত চারজন। গতকাল শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে দিঘীর পশ্চিম পাড় এলাকার একটি বাড়িতে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। হামলাকারীদের হাতে থাকা কিরিচ, সুইস গিয়ার ছুরি ও চাপাতির আঘাতে গুরুতর জখম হন হান্নান নামে এক ব্যক্তিসহ তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী জানা যায়, আরিফপুরের বাসিন্দা মোঃ হান্নানের সঙ্গে প্রতিবেশী একটি পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা এর আগেও একাধিকবার হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগীদের বাড়ির সীমানায় ঢুকে টিনের বেড়া ভাঙচুর শুরু করেন, যাতে প্রায় বিশ হাজার টাকার ক্ষতি সাধিত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা মারমুখী হয়ে ওঠেন। চিৎকার শুনে ছুটে আসেন হান্নানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। এ সময় একজন অভিযুক্ত কিরিচ দিয়ে কোপ বসান, যা প্রতিহত করতে গিয়ে হান্নানের মাথায় গুরুতর জখম হয়। আরেকজন অভিযুক্ত ছুরিকাঘাত করলে তাঁর হাতের আঙুল মারাত্মকভাবে কেটে যায়। এ ছাড়া হকিস্টিক ও লাঠির আঘাতে আরও দুই নারীসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় রেফার করা হয়েছে।

হামলার সময় অভিযুক্তরা জোরপূর্বক একটি স্বর্ণের চেইন, একটি স্বর্ণের আংটি এবং একটি রুপার চেইন ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকারও বেশি। এলাকাবাসী ছুটে এলে হামলাকারীরা পরিবারের সদস্যদের হত্যা ও লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

আহতদের প্রথমে বরুড়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে একজনকে অধিকতর চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় স্থানান্তর করা হয়। সুস্থ হয়ে ভুক্তভোগী স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করার পর বরুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *