আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে আগাম জামিন পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই স্ত্রী, দুই সন্তান এবং যৌন হয়রানির অভিযোগকারী কিশোরীসহ একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে রাজকুমার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর অভিযুক্ত পলাতক থাকলেও তাকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
শনিবার (১১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তেলেঙ্গানার রাঙ্গা রেড্ডি জেলার বাসিন্দা রাজকুমার প্রথমে শাবাদ এলাকায় নিজ বাড়িতে তার ৩০ বছর বয়সী স্ত্রী পার্বতী সরিতা এবং চার ও এক বছর বয়সী দুই ছেলেকে হত্যা করেন।
এরপর তিনি তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ দায়ের করা ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাড়িতে যান। সেখান থেকে কিশোরীকে গাড়িতে তুলে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যা করেন। একই ঘটনায় কিশোরীর ৪৫ বছর বয়সী মা এবং ৬৫ বছর বয়সী নানিকেও হত্যা করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কিশোরীর ২০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী বোন অক্ষত থাকেন।
হত্যাকাণ্ডের পর রাজকুমার তার বাবাকে ফোন করে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাঙ্গা রেড্ডি জেলার পুলিশ কর্মকর্তা তরুণ জোশী বলেন, ফোনে রাজকুমার বলেন, “আমি এটা করেছি। আমি এই লোকগুলোকে খুন করেছি।” এরপরই তিনি ফোন বন্ধ করে দেন।
পুলিশের দাবি, ফোনালাপে রাজকুমার আত্মহত্যার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। তবে এখনও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে এবং তার অবস্থান শনাক্তে অভিযান চলছে।
তদন্তে জানা গেছে, ২০১৮ সালে প্রেমের পর পার্বতী সরিতাকে বিয়ে করেন রাজকুমার। তাদের তিন সন্তান ছিল, যার মধ্যে প্রথম সন্তান শৈশবেই মারা যায়।
গত মে মাসে এক কিশোরীকে অনুসরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়। এরপর তিনি গ্রেপ্তার হলেও প্রায় এক সপ্তাহ আগে ২০ হাজার রুপির মুচলেকায় আদালত থেকে আগাম জামিন লাভ করেন।
পুলিশ কর্মকর্তা তরুণ জোশী জানান, অভিযোগ অনুযায়ী রাজকুমার নিয়মিত কিশোরীকে কোচিং সেন্টার থেকে বাড়ি পর্যন্ত অনুসরণ করতেন এবং তার প্রস্তাব গ্রহণে চাপ দিতেন।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তের দীর্ঘদিন ধরে আচরণগত সমস্যা ছিল। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মানসিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল না। এছাড়া তিনি জুয়ায় আসক্ত ছিলেন এবং উল্লেখযোগ্য ঋণের বোঝাও বহন করছিলেন। এ কারণে তাকে একাধিকবার কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডাকা হয়েছিল।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে তেলেঙ্গানা পুলিশ।
সূত্র: এনডিটিভি