কাউসার আহমেদ পনির:
ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যবহৃত একটি উচ্চমূল্যের পরীক্ষাগার যন্ত্র কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করার পরও পণ্য না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর হাটখোলাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরতের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছ থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ এনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার আবেদন করেছেন Oasis Laboratories Limited-এর পরিচালক ইমরান জুবেরী পিকো।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে ইমরান জুবেরী পিকো উল্লেখ করেন, তিনি Oasis Laboratories Limited-এর একজন পরিচালক। তার প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় ২০২১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হাটখোলার ৩১, মামুন প্লাজা (১ম, ২য় ও ৩য় তলা), শহীদ নজরুল ইসলাম সরণিতে অবস্থিত Paradise Scientific Company Ltd-এর সঙ্গে একটি ফার্মাসিউটিক্যাল ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র “HPLC With Auto Sampler” ক্রয়ের জন্য ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, চুক্তির শর্ত অনুসারে তিনি One Bank PLC-এর মাধ্যমে ২০২১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ২০ লাখ টাকা এবং একই বছরের ২৮ অক্টোবর আরও ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। দুটি চেকের মাধ্যমে মোট ৩০ লাখ টাকা প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে প্রদান করা হয়।
তিনি দাবি করেন, চুক্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যন্ত্রটি সরবরাহ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় অতিক্রম হওয়ার পরও কোনো যন্ত্র সরবরাহ করা হয়নি। এরপর তিনি একাধিকবার প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইমাম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে হয় পণ্য সরবরাহ, নয়তো জমা দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে প্রতিবারই বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রায় পাঁচ বছর ধরে নানা আশ্বাসের মাধ্যমে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখার পরও টাকা ফেরত না পেয়ে সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১০ মে তিনি প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে যান। সেখানে এমডি মো. ইমাম হোসেনের কাছে ৩০ লাখ টাকা ফেরত চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে দুর্ব্যবহার করেন এবং অফিস থেকে বের করে দেন।
অভিযোগে ইমরান জুবেরী পিকো আরও দাবি করেন, ওই সময় এমডি তাকে ভবিষ্যতে পাওনা টাকা চাইতে গেলে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেন। এমন হুমকির পর থেকে তিনি নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
এ ঘটনায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে আইনগত সুরক্ষা পাওয়ার লক্ষ্যে তিনি ওয়ারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণের আবেদন করেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে জানতে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইমাম হোসেনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।