সৌদি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু ঘোষণার হুথিদের ঘোষণা, লোহিত সাগরে ‘সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা’ জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইয়েমেনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা’ জারির ঘোষণা দিয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, এখন থেকে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে চলাচলকারী যেকোনো সৌদি জাহাজ বা নৌযানকে হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সোমবার হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন। পরে হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনি সংবাদমাধ্যমের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, লোহিত সাগর এবং এর দক্ষিণ প্রবেশপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে সৌদির যেকোনো জাহাজ দেখা গেলেই সেটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।

হুথিদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব তাদের নিয়ন্ত্রিত উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনের সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর অবরোধ করে রেখেছে। এর পাল্টা জবাব হিসেবেই এই সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।

অন্যদিকে হুথিদের এ ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক আইন মেনে লোহিত সাগরে নিজেদের জাহাজ ও সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লোহিত সাগর সৌদি আরবের বৈদেশিক বাণিজ্য ও জ্বালানি তেল রপ্তানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর এই রুটের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

হুথি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবকে তাদের প্রধান শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২০১৫ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদি সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। এরপর থেকেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমানে ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড হুথিদের নিয়ন্ত্রণে, আর বাকি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত আন্তর্জাতিক স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার।

যদিও ২০২২ সালে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, সম্প্রতি সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার হামলার দায় স্বীকার করলেও হুথিরা এর জন্য সরাসরি সৌদি আরবকে দায়ী করেছে।

হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া বলেন, “প্রায় ১২ বছর ধরে সৌদি আরব আমাদের জনগণের ওপর অন্যায় অবরোধ আরোপ করেছে। স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে আমাদের বন্দর ও বিমানবন্দর অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে। তাই ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে সৌদি শত্রুর বিরুদ্ধে সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তারা যদি আরও আগ্রাসী পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হুথিদের জনসংযোগ বিভাগের উপপ্রধান নাসরুদ্দিন আমের জানান, এই নিষেধাজ্ঞার অর্থ হলো—বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সৌদি জাহাজগুলো এখন থেকে হামলার ঝুঁকিতে থাকবে।

উল্লেখ্য, বাব আল-মান্দাব প্রণালি ইয়েমেন ও আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের মধ্যবর্তী প্রায় ৩২ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। এটি এডেন উপসাগরকে লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং সুয়েজ খালের মাধ্যমে ইউরোপ-এশিয়ার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নৌরুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *