মো. বাদশা মিয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কাটা নিশা (মোড়াহাটী) গ্রামে জমি বিক্রির টাকা গ্রহণের পরও দলিল সম্পাদন না করে প্রায় ১৮ বছর ধরে বসবাসরত ছোট ভাইকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. দিললর আলী ও তার পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা বাড়ি হারানোর আশঙ্কায় তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২০০৮ সালে মৃত শের আলীর বড় ছেলে মো. অন্তর মিয়া ও তার স্ত্রী শানু বেগমের কাছ থেকে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি কেনার জন্য একটি মৌখিক ও লিখিত চুক্তি হয়। সে সময় গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অন্তর মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী জমির নিবন্ধনের সময় বাকি টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। টাকা গ্রহণের পর অন্তর মিয়া জমিটির দখল ছোট ভাই দিললর আলীর কাছে বুঝিয়ে দেন।
দখল পাওয়ার পর দিললর আলী নিজস্ব অর্থ ব্যয়ে নিচু জমি ভরাট করেন। পরে সেখানে একটি বসতঘর নির্মাণ করে স্ত্রী-সন্তানসহ স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। গত ১৮ বছর ধরে তিনি ওই বাড়িতে বসবাস করলেও এখন পর্যন্ত জমির দলিল তার নামে সম্পাদন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন।
দিললর আলীর দাবি, বারবার দলিল সম্পাদনের জন্য বড় ভাইকে অনুরোধ করলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান। সম্প্রতি দলিল করে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি মারামারি ও মামলা-মোকদ্দমায় রূপ নেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির প্ররোচনায় অন্তর মিয়া এখন জমির মালিকানা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত ছোট ভাইকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে উপস্থিত বেশ কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ভুক্তভোগী দিললর আলীর দাবিকে যৌক্তিক বলে মত দেন এবং সালিশনামায় স্বাক্ষরও করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত অন্তর মিয়া সালিশের সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানান। পরে স্থানীয় মাতব্বররা বিষয়টি আদালত বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে আইনগতভাবে নিষ্পত্তির পরামর্শ দেন।
ভুক্তভোগী মো. দিললর আলী বলেন, “আমি বড় ভাইকে বিশ্বাস করে জমির জন্য টাকা দিয়েছিলাম। তার দেওয়া জমিতে নিজের কষ্টার্জিত অর্থে বাড়ি নির্মাণ করেছি। গত ১৮ বছর ধরে পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করছি। এখন দলিল না দিয়ে আমাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই এবং আমার বসতভিটার নিরাপত্তা ও জমির মালিকানা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
এলাকাবাসীর মতে, দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত একটি পরিবারকে দলিল সম্পাদন না করে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হলে তা সামাজিক ও মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে। তারা দ্রুত বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত অন্তর মিয়ার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে তার ক্রয়কৃত জমির মালিকানা আইনগতভাবে নিশ্চিত করা হবে এবং দীর্ঘ ১৮ বছরের বসতভিটা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।