স্টাফ করেসপন্ডেন্ট:
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সংসদীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা।
বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া উচিত। অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কলঙ্কমুক্ত হবেন, আর সত্য প্রমাণিত হলে সংসদের মর্যাদা রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা একটি চাকরিপ্রার্থী তরুণীর আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে লেখেন, দরিদ্র পরিবারের একজন সদস্যের জন্য একটি চাকরি শুধু কর্মসংস্থান নয়, বরং পুরো পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে অনেক ক্ষেত্রে চাকরির জন্য যোগ্যতার পাশাপাশি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশের ওপরও নির্ভর করতে হয়।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, চাকরির সুপারিশের বিনিময়ে কোনো ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা জরুরি। তাঁর ভাষায়, অভিযোগের বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির সঙ্গে সম্পর্কিত।
তাসনিম জারা লেখেন, “সম্ভাবনা মানেই প্রমাণ নয়, কিন্তু সামনে আসা তথ্যগুলো যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা উচিত। অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সম্মান ফিরে পাবেন, আর সত্য হলে সংসদের মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, যদি সংসদ এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে নীরব থাকে, তবে তা জনমনে নেতিবাচক বার্তা দেবে এবং জবাবদিহির প্রশ্ন উঠবে।
পোস্টের শেষাংশে তাসনিম জারা সরকারি চাকরিতে সুপারিশনির্ভর সংস্কৃতিরও সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, সরকার পরিবর্তন হলেও ক্ষমতাবানদের সুপারিশের সংস্কৃতি থেকে দেশ বের হতে পারেনি। এ ধরনের ব্যবস্থা দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, “প্রতিটি রাজনৈতিক দল দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু চাকরিতে সুপারিশনির্ভর সংস্কৃতি এখনো বহাল রয়েছে। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন না হলে সাধারণ মানুষ বারবার হয়রানি ও অনিশ্চয়তার শিকার হবে।”
উল্লেখ্য, গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওঠা অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বিচারিক বা সংসদীয় তদন্তের ফল প্রকাশিত হয়নি। তাই অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত নয়।