কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর জনগণকে অবহেলা করলে তার পরিণতি ভালো হবে না। বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “ইলেকশন করে গদি মোটা হয়ে গেছে, এখন আর জনগণকে গোনার টাইম নাই। সেই জনগণ এখনো বাংলাদেশে আছে। যাদের শেখ হাসিনা গোনেননি, সেই জনগণই তার গদিতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। শেখ হাসিনার আসন আরও বেশি ছিল। দুইশ আসন পেয়ে যদি এত পাখনা গজায়, তাহলে মনে রাখতে হবে—সংস্কার না হলে সেই পাখনা ভেঙে মাটিতে পড়বে।”
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সংবিধান সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো গত ৫৩ বছরের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটানো। তার ভাষায়, বর্তমান সংবিধান অতীতের শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জনগণ একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও সংস্কার চায় এবং সেই দাবি উপেক্ষা করা হলে জনরোষ আরও বাড়বে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে এসে বিএনপি এখন এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বিএনপিকে জনগণের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা উপলব্ধি করার আহ্বান জানান।
পথসভায় বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ছে, যার কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন কার্যালয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে এবং এতে সাধারণ মানুষ সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি দেশের মানুষের অধিকার, ভোটাধিকার, কর্মসংস্থান, সম্প্রীতি এবং জাতীয় স্বার্থের পক্ষে রাজনীতি করে। তিনি দাবি করেন, দলটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।
এ সময় তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কুড়িগ্রাম পৌরসভার এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুকুল মিয়া এবং সদস্য সচিব মাসুম মিয়ার নাম পরিচয় করিয়ে দেন।
এর আগে বিকেলে কুড়িগ্রাম কলেজ মোড়ের জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ থেকে শুরু হওয়া ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ পদযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। কর্মসূচিতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষাসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা।
জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও মিডিয়া সেল প্রধান রাশেদুজ্জামান তাওহীদের সঞ্চালনায় আয়োজিত পথসভায় আরও বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, জেলা নেতৃবৃন্দ এবং দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের অন্যান্য নেতারা।