মোঃআনজার শাহ
কুমিল্লার বরুড়া পৌরসভার অর্জুনতলা গ্রামে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতঘর ও একটি রান্নাঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ঘরে থাকা আসবাবপত্র, ফার্নিচার ও প্রয়োজনীয় মালামাল সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে বরুড়া পৌরসভার অর্জুনতলা গ্রামে দৌলত মেম্বারের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরবেলা দৌলত মেম্বারের বসতঘরে হঠাৎ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের রান্নাঘরেও। আগুনের লেলিহান শিখায় ঘরের ভেতরে থাকা মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে যায়। স্থানীয়দের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান।
খবর পেয়ে বরুড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তাদের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে আশপাশের অন্যান্য বসতঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা জানান, সময়মতো ফায়ার সার্ভিস ও পল্লী বিদ্যুতের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত না হলে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। আগুনের ভয়াবহতায় মুহূর্তেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। পাশাপাশি সরকারি সহায়তার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোয় উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।