“নামাজের চেয়ে বড় কিছু নেই”  অস্ত্রোপচার কক্ষে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ, মহিউদ্দিন আকাশের কলমে হৃদয়স্পর্শী স্মৃতিচারণ

মোঃআনজার শাহ

মানুষ চেনার জন্য দীর্ঘ পরিচয়ের প্রয়োজন হয় না, কিছু মানুষ এক নজরেই হৃদয়ে জায়গা করে নেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, এমপি তেমনই একজন মানুষ, যার সারল্য ও আন্তরিকতা আজও অনেকের স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে। বর্তমানে তিনি অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছেন বলে জানা গেছে, আর এ খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তার শুভাকাঙ্ক্ষী ও এলাকাবাসী।

জীবনের গল্প বলতে গেলে দেখা যায়, ২০১১ সালে ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাওয়ার পথে সিঁড়িতে পড়ে গিয়ে তার ডান পায়ের হিপ জয়েন্ট ভেঙে যায়। ঠিক সেই সময়েই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলায় তাকে জড়ানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর দীর্ঘ ১৩টি বছর তাকে কাটাতে হয় দেশের বাইরে, একটি মিথ্যা মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে।

সাংবাদিকতার সুবাদে এই মানুষটির সঙ্গে পরিচয় হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। সেই থেকেই লক্ষ্য করেছি, মুরাদনগরের মানুষের প্রতি তার আন্তরিকতা কতটা গভীর। মনে হতো, মুরাদনগরের প্রতিটি মানুষই যেন তার পরিবারের সদস্য। তাকে নিয়ে লিখতে বসলে কলম যেন থামতেই চায় না এত স্মৃতি, এত গল্প জমে আছে তাকে ঘিরে।
ধর্মীয় অনুশাসন পালনে তার নিষ্ঠা ছিল প্রশ্নাতীত। তার কাছে নামাজের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ ছিল না। মন্ত্রী হওয়ার পরও যতবার তার গাড়িতে চড়ার সুযোগ হয়েছে, ততবারই দেখেছি তিনি নিবিষ্ট মনে দোয়া-দরুদ পাঠ করছেন।

একবারের ঘটনা আজও স্পষ্ট মনে পড়ে। মুরাদনগর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলাম তার সঙ্গে, বসেছিলাম ঠিক তার পেছনের আসনে। গাড়ি ইলিয়টগঞ্জের কাছাকাছি পৌঁছাতেই তিনি বলে উঠলেন, “এশার জামাতের সময় হয়ে গেছে, মসজিদ দেখে গাড়ি থামাও।” আমার তখন একটু তাড়া ছিল, তাই বলেছিলাম, “দাদা, এশার নামাজ তো ঢাকায় গিয়েও পড়া যাবে।” তিনি শান্ত কণ্ঠে জবাব দিলেন, “নামাজ পড়তে পারব ঠিকই, কিন্তু জামাত তো আর পাব না।”

একটি ছোট্ট মসজিদের সামনে গাড়ি থামল। মুসল্লি ছিলেন হাতে গোনা ৪-৫ জন। আমাদের সঙ্গে থাকা ইউএনও, এসিল্যান্ড, ওসিসহ পুরো বহরই সেদিন একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন শুধু একজন মানুষের আন্তরিক অনুরোধে।

সেই মানুষটিই আজ কিছুক্ষণ আগে ফোন করে জানালেন, তার অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে, দোয়া চাইলেন। খবরটি শুনে বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠেছে। এই ছোট্ট জীবনে অনেক রাজনৈতিক নেতাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে, কিন্তু কায়কোবাদ দাদার মতো নেতা সত্যিই বিরল। আজ সেই মানুষটি অপারেশন থিয়েটারে।
সবার কাছে আকুল আবেদন একজন নামাজি, সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাকে সুস্থতার নেয়ামত দান করেন, রহমতের চাদরে আবৃত করেন এবং আবারও জনগণের সেবায় নিয়োজিত হওয়ার তৌফিক দান করেন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *