মোঃআনজার শাহ
একটি সুস্থ, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও জনবান্ধব করে তুলতে নেওয়া হয়েছে সমন্বিত ও সুদূরপ্রসারী এক উদ্যোগ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলছে কাজ।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, এমপি এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জনাব জাকারিয়া তাহের সুমন, এমপি। তাঁদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের প্রতিটি উপজেলার মানুষের জন্য উন্নত, আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়নের সুবিস্তৃত রূপরেখা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য চিকিৎসাসেবাকে রাজধানীকেন্দ্রিকতার গণ্ডি থেকে বের করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। যাতে একজন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্তে ছুটে যেতে না হয় বরং নিজ উপজেলার আধুনিক হাসপাতাল থেকেই তিনি পেতে পারেন প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত সেবা।
পরিকল্পনার আওতায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামসমৃদ্ধ হাসপাতাল নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোর উন্নয়ন, দক্ষ জনবল নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জন্য সহজলভ্য ও টেকসই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত সুস্থ জনগোষ্ঠী। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনার পাশাপাশি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় সূচিত হবে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন, এমনটাই মনে করছেন স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্টরা।
তাঁদের ভাষ্যে, ১০১ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ কেবল একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং এটি মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার এক মানবিক অঙ্গীকার। চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের মধ্য দিয়ে দেশের কোটি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও এই উদ্যোগ রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
স্বাস্থ্য খাতে সরকারের এই মহাপরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ হবে আরও সুগম। দেশের মানুষের কল্যাণে গৃহীত প্রতিটি ইতিবাচক উদ্যোগ সফল হোক, স্বাস্থ্যসেবার আলো পৌঁছে যাক দেশের প্রতিটি প্রান্তে এই প্রত্যাশাই আজ সর্বস্তরের মানুষের।