ধনবাড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যু

কে. এম. তৈয়ব আলী হীরা:

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে আব্দুল বাকি (৫২) বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। জানা গেছে, নড়বড়ে ঝুলন্ত তার সেচচালিত বৈদ্যুতিক পাম্পের ঘরের তারের সংস্পর্শে এসে ঘরসহ আশপাশের বৃষ্টিতে ভেজা মাটি বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে। যথাযথ আর্থিং না থাকায় বা বিদ্যুৎ লিকেজের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশে প্রতিবছর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শত শত মানুষ প্রাণ হারান। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বা দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর প্রায় ৪৮ শতাংশ ঘটনা বিভিন্ন বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার কারণে ঘটে। এ ছাড়া অধিকাংশ দুর্ঘটনার জন্য অসাবধানতা, ত্রুটিপূর্ণ তার, অবৈধ সংযোগ, পার্শ্বসংযোগ (সাইড কানেকশন), নড়বড়ে ও নিম্নমানের তার এবং মানহীন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম দায়ী।

যদিও বাংলাদেশে প্রতিবছর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোট কতজন মারা যান, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত কোনো নির্দিষ্ট বার্ষিক পরিসংখ্যান নেই। তবে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন গবেষণার তথ্যানুযায়ী, দগ্ধ বা অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ৪০০ মানুষ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো দুর্ঘটনা এড়াতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। পুকুর বা ডোবার পাশে, বিদ্যুৎচালিত পাম্পে, অবৈধ সংযোগ এবং লাইটিংয়ের জন্য ব্যবহৃত মানহীন ও ঝুলন্ত দীর্ঘ তার অনেক স্থানে এখনো মৃত্যুফাঁদ হয়ে আছে। এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারির দায়িত্ব কার—এ প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের। যেন দেখার কেউই নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *