Deprecated: Function WP_Dependencies->add_data() was called with an argument that is deprecated since version 6.9.0! IE conditional comments are ignored by all supported browsers. in /home/u102988081/domains/dailyswadhinsangbad.com/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
লামায় বনাঞ্চল ধ্বংসের মহোৎসব: বমু রিজার্ভ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছেন আ’লীগ নেত্রী - দৈনিক স্বাধীন সংবাদ

লামায় বনাঞ্চল ধ্বংসের মহোৎসব: বমু রিজার্ভ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছেন আ’লীগ নেত্রী

মো. রাসেল:

বান্দরবানের লামা বন বিভাগের আওতাধীন বমুবিলছড়ি ইউনিয়নে সরকারি ‘বমু রিজার্ভ’ ফরেস্টের জমি জবরদখলের মহোৎসব চলছে। বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোরশিদা বেগমের বিরুদ্ধে সরকারি বনভূমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশ করতে গেলে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি এবং মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য এবং ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোরশিদা বেগমের নেতৃত্বে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রিজার্ভপাড়া এলাকায় দুটি অবৈধ স্থাপনার নির্মাণকাজ পুরোদমে চলছে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এবং সংরক্ষিত বনের পাহাড় কেটে এই নির্মাণকাজ চালানো হলেও স্থানীয় বন বিভাগ এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

এদিকে, রিজার্ভ ফরেস্ট জবরদখলের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে মোরশিদা বেগম ও তাঁর অনুসারীরা তাঁদের ওপর চড়াও হন এবং নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “আইন কি শুধু অসহায় আর গরিব মানুষের জন্য? আমরা বনের একটি শুকনো কাঠ নিলেও বন বিভাগ মামলা দেয়। আর এই জবরদখলকারী নারী নেত্রী সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষকে হুমকি দিয়ে পুরো রিজার্ভ ফরেস্ট গিলে খাচ্ছেন, অথচ প্রশাসন নির্বিকার!”

এ বিষয়ে বমু ফরেস্ট বিট কর্মকর্তা রনি পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে যেকোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত। সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া এবং বনভূমি দখলের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ বন আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ প্রবেশ এবং স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের অপরাধে ন্যূনতম ২ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। স্থানীয় পরিবেশবাদীরা অবিলম্বে এ জবরদখলের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *