মোঃআনজার শাহ
রাজনীতি ক্ষমতা বা ব্যক্তিস্বার্থ অর্জনের হাতিয়ার নয়, বরং তা মানুষের সেবা করার এক মহান অঙ্গীকার—এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জনাব জাকারিয়া তাহের। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে সততা, স্বচ্ছতা ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতির প্রতি গভীর অঙ্গীকারের কথা, যা রাজনীতির প্রচলিত ধারার বিপরীতে এক ভিন্নমাত্রার দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে তাঁদের নিজস্ব কর্মসংস্থান ও ছোট ব্যবসা রয়েছে, যে আয়েই চলে তাঁদের পরিবার ও জীবিকা নির্বাহ। তাই রাজনীতিকে কখনো ব্যক্তিগত লাভের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করার প্রয়োজন কিংবা ইচ্ছা তাঁদের নেই। তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, আজ পর্যন্ত কেউ প্রমাণ করতে পারবেন না যে তাঁদের কারণে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বরং সব সময় তাঁরা চেষ্টা করেছেন মানুষের পাশে দাঁড়াতে, ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে এবং জনকল্যাণে কাজ করে যেতে।
মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের আরও বলেন, তাঁদের লক্ষ্য একটাই একটি সৎ, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। তিনি এমন এক রাজনীতির ভিত্তি গড়ে তুলতে চান, যেখানে ব্যক্তি নয়, মানুষের অধিকার ও কল্যাণই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাঁর ভাষায়, প্রকৃত রাজনীতি সেই রাজনীতি, যেখানে জনগণের আস্থা ও কল্যাণই মুখ্য বিবেচ্য বিষয়, ক্ষমতার আসন নয়।
তিনি বলেন, ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী; কিন্তু সততা, মানবিকতা এবং মানুষের ভালোবাসাই একজন রাজনীতিকের প্রকৃত পরিচয়। এই আদর্শকে ধারণ করেই তিনি এগিয়ে যেতে চান, যাতে আগামী প্রজন্ম একটি সুন্দর, নীতিনিষ্ঠ ও জনবান্ধব রাজনীতির শিক্ষা পায় এবং তা লালন করে।
মন্ত্রীর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেখানে ক্ষমতা ও ব্যক্তিস্বার্থের প্রতিযোগিতা প্রকট, সেখানে এমন সততা ও জনকল্যাণমুখী দৃষ্টিভঙ্গি একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে আগামী দিনের রাজনীতিবিদদের জন্য। তাঁর এই আদর্শ তরুণ প্রজন্মকে সৎ ও নীতিনিষ্ঠ রাজনীতির পথে অনুপ্রাণিত করবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্ত্রীর এই অকপট বক্তব্য প্রমাণ করে যে, রাজনীতি এখনো মানবসেবা ও জনকল্যাণের এক মহান মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে যদি তা পরিচালিত হয় সততা, দায়বদ্ধতা ও মানুষের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার ভিত্তিতে। এমন আদর্শবাদী রাজনীতির চর্চাই আগামী দিনে একটি সুস্থ ও জনবান্ধব রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।