নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অবস্থিত এক্সিম ব্যাংক টাওয়ারে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের উদ্যোগকে ঘিরে ব্যয়, অবকাঠামো ও নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন এক্সিম ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটিকে নতুন করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতি চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভবনটিতে সুইমিং পুল, স্পা ও ছাদে বিশেষ নকশার তাঁবুসহ বিভিন্ন বিলাসবহুল সুবিধা রয়েছে। আর্থিক পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাওয়া একটি ব্যাংকের জন্য এমন অবকাঠামো কতটা প্রয়োজনীয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যয়-সাশ্রয়ী ও কার্যকর অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সরেজমিনে ছাদে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকার কারণে মশার প্রজননস্থল তৈরি হওয়ার বিষয়টি নজরে এসেছে। বিষয়টি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে জানানো হলে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলকার নায়েন জানান, স্বাস্থ্য বিভাগকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ভবনের ছাদে নির্মিত বিশেষ তাঁবু ও কিছু কাঠামো বিদেশি প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হওয়ায় সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার জটিল হয়ে পড়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় কিছু অংশের স্থায়িত্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
ব্যাংকিং বিশ্লেষকদের মতে, কোনো ভবনকে প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের আগে শুধু অবস্থান বা সুযোগ-সুবিধা নয়, কাঠামোগত নিরাপত্তা, পরিচালন ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার সক্ষমতাও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে আমানতকারীদের অর্থে পরিচালিত একটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় প্রধান কার্যালয় স্থাপনের ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রসাধন, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পরিহার এবং কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ কারণে এক্সিম ব্যাংক টাওয়ারের বিলাসবহুল সুবিধা ও পরিচালন ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ভবনটি আগে থেকেই একটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং অবকাঠামো সেখানে বিদ্যমান। ফলে নতুন করে অন্য কোথাও প্রধান কার্যালয় স্থাপন করলে ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো তৈরিতে আরও বেশি ব্যয় হতো। তবে ভবিষ্যতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে ব্যয় ও সুবিধার বিষয় বিবেচনা করে অন্য স্থানে কার্যালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
অন্যদিকে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের যৌক্তিকতা, ভবনের বর্তমান অবস্থা কিংবা সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, কার্যক্রম শুরুর আগে ভবনটির পূর্ণাঙ্গ কারিগরি, অগ্নি ও কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করা উচিত।