পূর্বধলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ইদ্রিছ

মোশাররফ হোসেন জসিম পাঠান:

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ হুমাউন কবীর ইদ্রিছ। তিনি ঘাগড়া ইউনিয়নের মৃত হাজী ইনতাজ আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও সাংগঠনিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে এলাকায় একজন সমাজসেবক, জনদরদী ও গরিবের বন্ধু হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে ঘাগড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ও যোগাযোগ শুরু করেছেন মোঃ হুমাউন কবীর ইদ্রিছ। তিনি ইউনিয়নবাসীর দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছেন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে তিনি দীর্ঘদিনের সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রজীবন থেকেই রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ইদ্রিছ। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী বলে জানান। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রতিও তার সমর্থন রয়েছে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি। তিনি দীর্ঘদিন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া কাপাসিয়া বাজার ও বাজার জামে মসজিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি সোনাইকান্দা মাদ্রাসা ও জামে মসজিদের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এসব সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন। ফলে ঘাগড়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দাবি করেছেন।

চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ হুমাউন কবীর ইদ্রিছ বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থেকে কাজ করার চেষ্টা করেছি। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখাই আমার মূল লক্ষ্য। আসন্ন নির্বাচনে আমি ঘাগড়া ইউনিয়নবাসীর দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছি।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, রাস্তাঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করতে চান।

তিনি বলেন, “দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষই আমার শক্তি। আমি চাই, ঘাগড়া ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষ যেন তাদের ন্যায্য অধিকার পায়। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে কোনো শ্রেণি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, দল-মত নির্বিশেষে ইউনিয়নের সব মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।”

এ সময় তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইউনিয়নবাসীর কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, ৩১ দফার আলোকে গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার, সুশাসন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পেলে তিনি সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।

ইদ্রিছ আরও বলেন, ঘাগড়া ইউনিয়নকে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে হলে জনগণের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এজন্য তিনি ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চান।

এদিকে তার প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের খবরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আসন্ন নির্বাচনে চূড়ান্তভাবে কে বা কারা প্রার্থী হবেন, তা দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ হুমাউন কবীর ইদ্রিছ বর্তমানে ঘাগড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শুনছেন। তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলে জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

সবশেষে তিনি ঘাগড়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের কাছে তার জন্য দোয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *