মোসাদ্দেক হোসেন জুয়েল:
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে মসজিদ পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের পাঁচজন মুসল্লি আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) জুমার নামাজের পর উপজেলার মেহার উত্তর ইউনিয়নের দেবীপুর জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—আলমগীর হোসেন সুমন (৩৪), পিতা মৃত আমির হোসেন; মো. শামিম (৪১), পিতা মো. দেলোয়ার হোসেন; বেলাল হোসেন (২৬), পিতা মো. শাহজাহান; নাজমুল হুদা (৭০), পিতা মৃত সেকান্দর আলী এবং মিনহাজুল হুদা (৩২), পিতা নাজমুল হুদা। তারা সবাই দেবীপুর এলাকার বাসিন্দা।
গুরুতর আহত আলমগীর হোসেন সুমন, মো. শামিম ও বেলাল হোসেনকে প্রথমে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের কুমিল্লায় পাঠানো হয়। নাজমুল হুদাকেও কুমিল্লায় রেফার করা হলেও তিনি চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারী পক্ষের মুসল্লি রুবেল খন্দকার জানান, মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যেই মসজিদ কমিটির স্বঘোষিত সভাপতি দাবি করে নাজমুল হুদা মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গেলে স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি তাকে বক্তব্য না দেওয়ার অনুরোধ করেন। এ সময় নাজমুল হুদার ছেলে মিনহাজুল হুদাসহ কয়েকজনের সঙ্গে মুসল্লিদের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
রুবেল খন্দকারের দাবি, সংঘর্ষে মুসল্লি আলমগীর হোসেন সুমন, মো. শামিম হোসেন ও বেলাল হোসেন আহত হন। পরে তাদের শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় পাঠানো হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অপর পক্ষের মিনহাজুল হুদা বলেন, “মসজিদটি আমাদের বাপ-চাচারা করেছেন। গত ৩০ বছর ধরে মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধ চলছে। সম্প্রতি উপজেলা পর্যায়ের নেতা ও স্থানীয় মুসল্লিদের উপস্থিতিতে একজন ইমাম নিয়োগ দেওয়া হয়। ঘটনার দিন আগের ও বর্তমান নিয়োগপ্রাপ্ত ইমামদের বিষয়ে জুমার নামাজ শেষে আমার বাবা নাজমুল হুদা উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গেলে একটি পক্ষ বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। এতে আমি ও আমার বাবা আহত হই। আমরা বর্তমানে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছি।”
এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম রনি জানান, তিনি ওই মসজিদের মুসল্লি নন এবং দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মসজিদের সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
সাইফুল ইসলাম রনি বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে এলাকার একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। আদৌ এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং আমি বিষয়টি সম্পর্কে জানিও না। যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের প্রতি আমি তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাচ্ছি।”
অপরদিকে, সংঘর্ষের খবর পেয়ে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় মুসল্লিরা মসজিদের মতো ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিরোধ ও সংঘর্ষ এড়িয়ে পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।