লামায় শিশু আরাফাত হত্যার ১১ মাস পর প্রধান আসামি কুদ্দুছ গ্রেপ্তার

মোঃ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার:

বান্দরবানের লামা উপজেলার বৈল্যারচরে ৯ বছরের শিশু আরাফাত হোসেনকে বলাৎকার ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামি মো. আবদুল কুদ্দুছকে (৩৯) দীর্ঘ ১১ মাস পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানাধীন চর সামসুদ্দিন এলাকার রফিকগঞ্জ বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামি কুদ্দুছ শিশুটিকে বলাৎকার এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। তবে এই নৃশংস ফৌজদারি অপরাধকে প্রথম দিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং টাকার বিনিময়ে সালিশি বৈঠক ডেকে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও সচেতন এলাকাবাসী।

তদন্ত সূত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৮ জুলাই দুপুরে লামা থানাধীন বৈল্যারচর এলাকায় বাদীর বসতঘরের সামনে মাচার চালার সঙ্গে গলায় নেটের রশি পেঁচানো অবস্থায় শিশু আরাফাত হোসেনের মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনার পরপরই লামা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠায়।

প্রথমে ৯ জুলাই থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হলেও পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত, ডিএনএ প্রোফাইলিং ও চিকিৎসকদের বিশেষজ্ঞ মতামতে বেরিয়ে আসে, শিশুটিকে বলাৎকারের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির অ্যানাল সোয়াবে বীর্যের উপাদানের উপস্থিতিও শনাক্ত হয়। এরপর ১১ জুলাই লামা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছেন লামা থানার এসআই মো. সালাহ উদ্দিন। লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তদন্তে সহযোগিতা করছেন এসআই সত্যজিৎ বড়ুয়া ও এএসআই প্রকাশ ঘোষ।

পুলিশি তৎপরতা টের পেয়ে আসামি আবদুল কুদ্দুছ তার ব্যবহৃত অটোরিকশাটি একটি গ্যারেজে রেখে পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে লক্ষ্মীপুরে আত্মগোপন করেন। অবশেষে গত ৯ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টায় কমলনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১১ আগস্ট তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, হত্যা ও বলাৎকারের মতো গুরুতর অপরাধের তথ্য গোপন করা, আলামত নষ্ট করা বা অর্থের বিনিময়ে রফাদফার চেষ্টা করা দণ্ডবিধির ২০১, ২০২ ও ২১৪ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

সচেতন মহল প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, “মূল আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় আমরা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু লাশের ওপর দাঁড়িয়ে যারা টাকার বিনিময়ে খুনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে সালিশ ডেকেছিল, সেই তথাকথিত সমাজপতিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় এনে এই মামলায় তাদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।”

লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ গুরুত্বের সঙ্গে অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *