মোঃআনজার শাহ :
বারিধারা কেবল একটি আবাসিক এলাকা নয়; দেশের নাগরিক জীবনে এটি একটি পরিচিত ও মর্যাদাপূর্ণ নাম। সেই ঐতিহ্যবাহী বারিধারা ক্লাবের সদস্যদের ক্লাবের নিজস্ব কার্যক্রমের গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর সামাজিক ও পরিবেশগত দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন।
তিনি বলেন, বারিধারা ক্লাবের রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সুনাম। ক্লাবের সদস্যরা দেশের সম্মানিত নাগরিকদের একটি অংশ। তাই ক্লাবের স্থাপনা ও নিয়মিত কর্মসূচির পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ, নাগরিক জীবন ও জনকল্যাণের প্রতিও তাঁদের দায়িত্ব রয়েছে।
বারিধারা ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
লেক রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে:
মন্ত্রী জানান, গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাধার ও নাগরিক পরিবেশের অংশ। লেকের পরিবেশ রক্ষা ও দূষণমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। বারিধারা সোসাইটিসহ এলাকার বাসিন্দারা লেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব রাখতে ইতোমধ্যে বিভিন্নভাবে কাজ করছেন। এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “বারিধারা ক্লাবের সকল সদস্যের কাছে আমার অনুরোধ, আপনারা বারিধারা সোসাইটির সঙ্গে একাত্ম হয়ে এলাকার পরিবেশ উন্নয়নে অবদান রাখুন। আমাদের প্রত্যেকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গুলশান-বারিধারা লেককে আরও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব করে তোলা সম্ভব।”
এসটিপি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব:
গুলশান-বনানী-বারিধারা এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে রাজউকের বিধিবিধান যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। বিশেষ করে ভবনগুলোর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) ব্যবস্থাপনা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কোনো ভবনের বর্জ্য যাতে সরাসরি লেকে গিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি আমাদের লেকগুলোকে সম্পূর্ণভাবে দূষণমুক্ত রাখতে। এ ক্ষেত্রে শুধু সরকারি সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করলে হবে না। এলাকার বাসিন্দা, সামাজিক সংগঠন ও ক্লাবসহ সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
নতুন ভবন নির্মাণে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস
বারিধারা ক্লাব ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম সুনামধন্য ক্লাব হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে ক্লাবটির কার্যক্রম ও অবকাঠামোগত উন্নয়নও এগিয়ে যাচ্ছে। ক্লাবের নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তিনি জেনেছেন।
তিনি বলেন, “আমি জেনেছি, আপনাদের নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ১০ তলা একটি আধুনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে আইনগতভাবে যতটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব, আমি তা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; পরিবেশ, জলাধার, নাগরিক সুবিধা ও জনস্বার্থকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একটি সুন্দর নগর গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণও অপরিহার্য।
পটভূমি: লেক দূষণ রোধে সরকারি উদ্যোগ:
প্রসঙ্গত, গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের পানিদূষণ রোধ, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং লেককেন্দ্রিক নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে চলতি বছর সরকারি পর্যায়েও একাধিক উদ্যোগ ও আলোচনা হয়েছে। লেকে পয়ঃবর্জ্য পড়া বন্ধ করা, এসটিপি স্থাপন, লেক ও সংযুক্ত খাল নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং পানিপ্রবাহ সচল রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একাধিক বৈঠকে লেক দূষণমুক্ত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এসব বৈঠকে গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের পরিবেশ রক্ষায় স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপনের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী তাঁকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য বারিধারা ক্লাবের কর্তৃপক্ষ ও সদস্যদের ধন্যবাদ জানান এবং ক্লাবটির উত্তরোত্তর উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।