নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্লাস্টিকের ড্রামের পানিতে ফেলে ১৪ দিন বয়সী এক নবজাতককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা সৌরভ হোসেন বাদী হয়ে স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেগমগঞ্জ থানায় মামলাটি করা হয়। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। ওই দিন রাত ১০টার দিকে বসতঘরে রাখা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত নবজাতক সৌরভ হোসেনের ছেলে। মামলার আসামি ফাতেমা বেগম (১৯) বেগমগঞ্জ উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের শরীফ উল্যার মেয়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেমের সম্পর্কের পর সৌরভ হোসেন ও ফাতেমা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।
সোমবার সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যরা নবজাতককে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। শিশুটির বিষয়ে ফাতেমাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, পেছন থেকে কেউ তাকে মাথায় আঘাত করে শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে তিনি বলেন, জিন শিশুটিকে নিয়ে গেছে। তার বক্তব্যে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে ঘর ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি শুরু করা হয়।
একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে বসতঘরে রাখা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর নবজাতকের মরদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ফাতেমা সন্তানকে ড্রামের পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নবজাতক অতিরিক্ত কান্নাকাটি করত এবং রাতে ঘুমাতে না দেওয়ায় বিরক্ত হয়ে ফাতেমা শিশুটিকে পানিভর্তি ড্রামের মধ্যে ফেলে ড্রামের মুখ বন্ধ করে দেন। এতে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানায়।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার পরপরই তার মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তদন্তের ভিত্তিতে নিহত শিশুর মা ফাতেমা বেগমকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফাতেমা নবজাতককে বসতঘরে থাকা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ড্রামের পানিতে ফেলে দেন এবং ড্রামের মুখ বন্ধ করে দেন। এতে শিশুটির মৃত্যু হয়। নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার ফাতেমাকে আসামি হিসেবে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।