ক্রীড়া প্রতিবেদক ::
বাংলাদেশের বিপক্ষে ঢাকায় আগামী ৬ অক্টোবর প্রীতি ম্যাচ খেলতে আগ্রহ দেখিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে তার আগে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় আসিয়ান টুর্নামেন্টে অংশ নেবে বাংলাদেশ। ফলে টানা ম্যাচের সূচি, খেলোয়াড়দের ক্লান্তি এবং ম্যাচ আয়োজনের বিপুল ব্যয়—সব মিলিয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়ে দেশের ফুটবলাঙ্গনে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলির মতে, বাংলাদেশের মূল মনোযোগ এখন আসিয়ান কাপেই থাকা উচিত। তিনি বলেন, ব্রাজিলের সঙ্গে খেলার সুযোগ নিঃসন্দেহে বড় অভিজ্ঞতা হবে। তবে ম্যাচটি আয়োজনের সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ জড়িত থাকায় বিষয়টি ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
এমিলির ভাষায়, “ব্রাজিলের বিষয়টি মাত্র আলোচনায়। এখানে অর্থের অনেক বড় ব্যাপার রয়েছে। এরপরও ব্রাজিলের সঙ্গে বাংলাদেশ খেলতে পারলে সেটি বড় অভিজ্ঞতা হবে। আমার মতে, আসিয়ান কাপকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এরপর যদি ব্রাজিলের সঙ্গে খেলা সম্ভব হয়, তাহলে ভালো।”
দেশের অন্যতম ফুটবল বিশ্লেষক মারুফুল হকও ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটিকে ঐচ্ছিক হিসেবে দেখছেন। তার মতে, আসিয়ান কাপের প্রস্তুতিই হতে হবে অগ্রাধিকার। সেই প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা ঠিক রেখে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলা সম্ভব হলে সেটি ইতিবাচক হবে।
আসিয়ানে গ্রুপপর্বে বাংলাদেশ তিনটি ম্যাচ খেলবে। এরপর আরও একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। ফলে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ চারটি ম্যাচ খেলার পর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ৬ অক্টোবর ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামতে হবে জামাল-হামজাদের।
তবে এটিকে অসম্ভব মনে করছেন না মারুফুল হক। তার মতে, বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করবে কোচের পরিকল্পনা ও খেলোয়াড়দের লোড ম্যানেজমেন্টের ওপর। ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশের খুব বেশি দূরে নয় বলেও মনে করেন তিনি। ৩ অক্টোবর ম্যাচ শেষ করে ৬ অক্টোবর ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলা কঠিন হলেও সম্ভব বলে তার মত।
অন্যদিকে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজনের আর্থিক বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ২০১১ সালে ঢাকায় আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়ার ম্যাচ আয়োজন করতে গিয়ে বাফুফেকে কয়েক কোটি টাকা ঋণ করতে হয়েছিল। সেই ঋণের বোঝা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এমন পরিস্থিতিতে ব্রাজিলের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের ম্যাচ আয়োজন করতে আরও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হতে পারে।
এমিলি মনে করেন, পর্যাপ্ত স্পন্সর বা সরকারি সহায়তা না পাওয়া গেলে ম্যাচ আয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় বাফুফের ওপর নতুন করে আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, “ব্রাজিলের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল এলে সাংগঠনিক প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই প্রয়োজন। আর্জেন্টিনার আসার সময় আমরা কয়েক মাস আগে থেকেই নানা প্রস্তুতি দেখেছি। এখন দেড় মাসেরও কম সময়ে এত কিছু করা কঠিন। আমাদের ঘরোয়া ফুটবলসহ আরও অনেক সমস্যা রয়েছে। ব্রাজিল ম্যাচ আয়োজনে অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে গিয়ে সেগুলো আরও উপেক্ষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
বাংলাদেশের ফুটবলে অবকাঠামো, ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাসহ নানা মৌলিক সমস্যা রয়েছে। ফুটবলসংশ্লিষ্টদের একটি অংশের মতে, এসব সমস্যার সমাধান না করে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বসেরা দলের বিপক্ষে একটি ম্যাচ আয়োজন করলে সেটি দেশের ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখবে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
তবে বিপরীত মতও রয়েছে। বাংলাদেশে ব্রাজিলের বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে এবং দেশের মাটিতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে খেলার সুযোগ খুব সহজে আসে না। ফলে এমন ম্যাচ হলে খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা বাড়ার পাশাপাশি দেশের ফুটবলে দর্শক ও স্পন্সরদের আগ্রহও বাড়তে পারে বলে মনে করেন অনেকে।
সব মিলিয়ে, ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য বড় আকর্ষণ হলেও বাফুফেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বাস্তবতা, আর্থিক সক্ষমতা, খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি এবং দীর্ঘমেয়াদি ফুটবল উন্নয়নের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই।