মোছাঃ নাছিমা খাতুন সুলতানা:
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিশকাকুনী ইউনিয়নের গাইলাড়া বাজার থেকে আপতা ব্রিজ পর্যন্ত চলাচলের সরকারি রাস্তা দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এতে দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা সংকুচিত ও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাম ও এলাকার সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি রাস্তার ওপর অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশকাকুনী ইউনিয়নের গাইলাড়া বাজার থেকে আপতা ব্রিজ পর্যন্ত এলাকায় ইটের সলিং ও কাঁচা রাস্তা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ রাস্তা দিয়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে আসছেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য রাস্তাটি গুরুত্বপূর্ণ একটি চলাচলের পথ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্প্রতি মৃত ইয়াকিন আলীর ছেলে মো. সোলাইমান, তাইজুদ্দিন ও মো. রিয়াজ উদ্দিন সরকারি রাস্তার ওপর জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি রাস্তার জায়গা দখল করে এভাবে স্থাপনা নির্মাণের ফলে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, তাদের দেখাদেখি পাশের বাড়ির মৃত চান মিয়ার ছেলে মো. তোতা মিয়া ও সাইদুল মিয়াও রাস্তার জায়গায় একইভাবে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। ফলে একসময় যে রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতেন, বর্তমানে সেই পথ অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়ির ওপর দিয়ে কিংবা ধানখেতের আইল ব্যবহার করে চলাচল করছেন। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে, অন্যদিকে কৃষকদের জমিরও ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ধানখেতের আইল দিয়ে চলাচল করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, রাস্তা দখলের বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এতে অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে গ্রামজুড়ে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি রাস্তার ওপর স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দিনের পর দিন রাস্তা দখলের ঘটনা বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।
সম্প্রতি ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিকরা বিষয়টি জানতে সরেজমিনে এলাকায় গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের কাছে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। এ সময় একাধিক গ্রামবাসী রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল হাই বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করে আসছি। বর্তমানে রাস্তার ওপর ঘর নির্মাণ করায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যাচ্ছে না। আমাদের অন্যের বাড়ি ও ধানখেতের আইল দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।’
আব্দুল মান্নান, মো. মোতালেব, সেলিম মিয়া, সাইদুল ইসলাম, হাসিম উদ্দিন ও আব্দুল ছামাদ সরকারসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সরকারি রাস্তা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের কারণে পুরো এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। তারা দ্রুত তদন্ত করে রাস্তার জায়গা দখলমুক্ত করার দাবি জানান।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় দখলকারীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছেন। এতে ভবিষ্যতে রাস্তার পুরো অংশ দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গ্রাম ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে সরকারি রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, চলাচলের পথ পুনরুদ্ধার এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসী নেত্রকোনার জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ সুপার এবং পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সরকারি রাস্তা দখলের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোলাইমান, তাইজুদ্দিন, রিয়াজ উদ্দিন, তোতা মিয়া ও সাইদুল মিয়ার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।