মোঃআনজার শাহ:-
কুমিল্লার বরুড়ার কৃতী সন্তান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম (বাদরু) বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের (বিএনএফ) চেয়ারম্যান হিসেবে গ্রহণ করেছেন নতুন দায়িত্ব। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততার পর রাষ্ট্রীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে তাঁর এই দায়িত্ব গ্রহণকে নতুন সম্ভাবনার সূচনা হিসেবে দেখছেন তাঁর নিজ এলাকা বরুড়া ও কুমিল্লার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
গত ২৫ আগস্ট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম বাদরুকে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের সাধারণ পরিষদ ও পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেয়। নিয়োগের পর ২৭ আগস্ট তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম বাদরুর কর্মজীবনে যুক্ত হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি এখন নেতৃত্ব দেবেন দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা একটি প্রতিষ্ঠানের। বিশেষ করে দেশের দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং এনজিওগুলোর মাধ্যমে বাস্তবায়িত বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বরুড়ার মাটি থেকে জাতীয় পর্যায়ে:
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার সন্তান খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম বাদরু স্থানীয় মানুষের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত একটি নাম। রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি ‘বাদরু’ নামেই অধিক পরিচিত। বরুড়ার মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক তাঁকে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে একটি পরিচিত রাজনৈতিক মুখ হিসেবে।
তৃণমূলের রাজনীতি থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃত্বে উঠে আসা মোরতাজুল করিম বাদরুর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তিনি যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময় দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ তাঁকে পরিচিত করে তোলে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে।
পরবর্তী সময়ে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে। কেন্দ্রীয় রাজনীতির পাশাপাশি নিজ এলাকার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের নেতারা।
সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন:
জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর সম্পৃক্ততার আরেকটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হলো ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসন থেকে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম বাদরু।
এতে বরুড়া কেন্দ্রিক রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি আরও সামনে আসে। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তাঁকে বরুড়ার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হিসেবে ধরে রেখেছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে নতুন দায়িত্ব:
রাজনৈতিক জীবনের বাইরে এবার তাঁকে দেখা যাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে। বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে থাকে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম বাদরুর সামনে রয়েছে
বিস্তৃত কর্মপরিধি ও বড় দায়িত্ব।:
নতুন এই দায়িত্বে তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা কীভাবে কাজে লাগে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। দীর্ঘদিন মানুষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সম্পর্কে তাঁর ধারণা ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
বিশেষ করে দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের সহায়তা, সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং এনজিওগুলোর কার্যক্রমে সমন্বয় আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্ব হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ।
দায়িত্ব গ্রহণের পর শ্রদ্ধা নিবেদন:
চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম বাদরু বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ঢাকার শেরেবাংলা নগরে তাঁদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান তিনি।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের এই উপস্থিতি তাঁর রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন তাঁর অনুসারীরা।
বরুড়ায় আনন্দের আবহ:
খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম বাদরু বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হওয়ায় তাঁর নিজ এলাকা বরুড়ায়ও তৈরি হয়েছে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, বরুড়ার একজন সন্তান জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আসায় এটি পুরো এলাকার জন্য সম্মানের বিষয়।
তাঁর এই নিয়োগকে শুধু একজন ব্যক্তির দায়িত্বপ্রাপ্তি হিসেবে না দেখে বরুড়ার মানুষের জন্যও একটি ইতিবাচক অর্জন হিসেবে দেখছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অর্জিত অভিজ্ঞতা এবার সামাজিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
রাজনীতি থেকে উন্নয়নমূলক নেতৃত্বে:
খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম বাদরুর রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা মূলত গড়ে উঠেছে সংগঠন, নেতৃত্ব ও মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে। যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে দায়িত্ব পালন এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি দেখেছেন রাজনীতির নানা পর্যায়।
এবার সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হলো উন্নয়নমূলক একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব। ফলে তাঁর নতুন দায়িত্বকে অনেকেই রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে দেখছেন একটি প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব হিসেবে। জনগণের কল্যাণে কাজ করা, সামাজিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া এবং ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব কেমন ভূমিকা রাখে, সেটিই এখন আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
নতুন দায়িত্বে বড় প্রত্যাশা:
বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম বাদরুর সামনে রয়েছে বড় প্রত্যাশা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য পরিচালিত উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা, এনজিওগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলোকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও ফলপ্রসূ করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনীতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে যেমন দিয়েছে সাংগঠনিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ, তেমনি নতুন দায়িত্ব তাঁকে করে দিয়েছে সেই অভিজ্ঞতাকে ভিন্ন একটি ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর সুযোগ। এখন তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম কতটা গতিশীল হয় এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে প্রতিষ্ঠানটি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
কুমিল্লার বরুড়ার মাটি থেকে উঠে এসে জাতীয় পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম বাদরুর জন্য নিঃসন্দেহে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের পথচলার পর এবার সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
বরুড়ার মানুষের প্রত্যাশা, নতুন দায়িত্বে তাঁর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ ও কর্মদক্ষতার ইতিবাচক প্রতিফলন ঘটবে। আর বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর সময়কাল দেশের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকার একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে উঠবে এমনই প্রত্যাশা তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী ও এলাকাবাসীর।