জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: প্রতিমন্ত্রী হাবিব

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নারায়ণগঞ্জের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেন, “জনসাধারণের নিরাপত্তা ও স্বার্থকে আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। জননিরাপত্তা, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারের কঠোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, বিভিন্ন সেক্টরে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও উন্মুক্ত মতবিনিময় হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, “নারায়ণগঞ্জ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এখানকার ব্যবসায়িক পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসা বা চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী সমাজ, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ জনগণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এর কারণে তরুণ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধও বাড়ছে। তাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন ব্যবসায়ী, পরিবহন খাত কিংবা সাধারণ মানুষের ওপর অবৈধভাবে অর্থ আদায় করতে না পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। চাঁদাবাজির কারণে যাতে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়িক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সব স্তরের জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জেলা পর্যায়ের প্রধানরা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে উপস্থিত প্রতিনিধিরা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। বিশেষ করে মাদক নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, যানজট নিরসন এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় বক্তারা নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়াতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মাদক, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *