মোঃআনজার শাহ :
ঢাকাস্থ বরুড়া ছাত্রকল্যাণ সমিতির এক অনুষ্ঠানে গৃহমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, আগামী চার বছরের মধ্যে বরুড়াকে দেশের যেকোনো উন্নত উপজেলা সঙ্গে সমান তালে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে, যদি সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বরুড়া থেকে প্রতিবছর কয়েকশ মেধাবী শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন। এখন প্রায় প্রতিটি গ্রামেই চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সরকারি কর্মকর্তা কিংবা সফল ব্যবসায়ী খুঁজে পাওয়া যায়, যা এক সময় কল্পনাতীত ছিল। তিনি স্মরণ করেন, বহু বছর আগে ঢাকা থেকে বরুড়া পর্যন্ত পাকা রাস্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ঘাটতি ছিল। গত পাঁচ দশকে বরুড়া থেকে উঠে আসা বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বের হাত ধরে অঞ্চলটি ধীরে ধীরে আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছেছে।
মন্ত্রী জানান, গত ছয় মাসে বরুড়ার উন্নয়নে একাধিক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, উপজেলার সব রাস্তা ইতিমধ্যে পাকাকরণের আওতায় আনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়ে গেছে। বরুড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালকে ধাপে ধাপে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া রাস্তাঘাট সংস্কার, স্কুল-কলেজ পুনর্নির্মাণ, খেলার মাঠ ও একটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে। বরুড়া কলেজের অবকাঠামো ও শ্রেণিকক্ষ নতুন করে সাজানোর কাজও চলমান বলে জানান তিনি।
উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নিজের ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি গ্রামের মেধাবী কিন্তু সুযোগবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের কোচিং, পরামর্শ কিংবা ভর্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করলে তা বরুড়ার সামগ্রিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ভাষাশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, জাপানি ভাষা শেখানো কিংবা নার্সিং কোর্স সম্পন্ন করানোর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশে ভালো বেতনের চাকরির সুযোগ তৈরি করা যায়।
নিজের শিক্ষাজীবনের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, তিনি ঢাকা মডেল কলেজ ও ঢাকা কলেজে পড়াশোনার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান, ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এ বিষয়ে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান সময়টাই জীবনের সবচেয়ে ভালো সময়, তাই কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা ও জীবনের এই সময়টুকু উপভোগ করাও জরুরি।
বক্তব্যের শেষে মন্ত্রী সবাইকে নিজ নিজ লক্ষ্য স্থির করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান, যাতে ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দেশ ও এলাকার জন্যও ইতিবাচক অবদান রাখা যায়। আগামী রোজায় আবার দেখা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।