সাভার প্রতিনিধি:
সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি তালাবদ্ধ ভাড়া বাসা থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই কক্ষ থেকে ৭-৮ মাস বয়সী একটি মৃত ভ্রূণও উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় এক মাস আগে ওই বাসায় ভাড়া উঠেছিলেন তারা।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর মালিকানাধীন ভাড়া বাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।নিহতরা হলেন—দিনাজপুর জেলার নবাবপুর থানার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন (৪০) ও তার স্ত্রী নাজমা বেগম (৩২)। আলমগীর পেশায় ভ্রাম্যমাণ পান বিক্রেতা ছিলেন। তার স্ত্রী নাজমা আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তিনি ৭-৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ওই ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানান অন্য ভাড়াটিয়ারা। পরে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তিনজনের মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।নিহত নাজমার বোন শাপনা বেগম জানান, ২০২২ সালে আলমগীর ও নাজমার বিয়ে হয়। প্রায় এক মাস আগে তারা মধ্য জামগড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তিনি ও নাজমা একই পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে অফিস শেষে তিনি নিজ বাসায় চলে যান। এরপর রাত ১০টার দিকে সর্বশেষ বোনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়। পরে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার সকালে নাজমার মৃত্যুর খবর পান তিনি।আশুলিয়া থানার জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আবু মোতালেব জানান, তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার পর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে দরজা ভেঙে ভেতর থেকে দম্পতির মরদেহ ও একটি মৃত ভ্রূণ উদ্ধার করা হয়।তিনি বলেন, মরদেহগুলো অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, নিহত নাজমার এর আগে একবার বিয়ে হয়েছিল। ২০১৬ সালে ওই স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়।এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা।