ব্যাইলি রোডে পীর-মাশায়েখদের ঈদে মিলাদুন্নবী পুনর্মিলনী, সুফিপন্থীদের ঐক্যের ডাক

এ আর সুমন:

রাজধানীর ব্যাইলি রোডে ঢাকা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আধ্যাত্মিক আবহ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পীর-মাশায়েখ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পুনর্মিলনী-২০২৬’। বিশ্বখ্যাত ইসলামিক প্রতিষ্ঠান দেওয়ানবাগ দরবার শরীফের উদ্যোগে এবং ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা হুজুরের আহ্বানে এ আয়োজন করা হয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় তিন হাজার প্রতিনিধি অংশ নেন।

সম্মেলনে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রসিদ্ধ দরবার, খানকা শরীফ ও সুফি তরিকার পীর-মাশায়েখ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, ইরান, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সম্মেলন থেকে সুফি তরিকার অনুসারীদের মধ্যে ঐক্য আরও জোরদার করা, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা ও ভালোবাসা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সুফিবাদ ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নিয়ে বিদ্বেষ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সুফিপন্থীদের পারস্পরিক সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করে ইমাম কুদরত এ খোদা হুজুর বলেন, কোনো একটি দরবার সমস্যায় পড়লে অন্য দরবারের অনুসারীদেরও তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, পীর-মাশায়েখরা আছেন বলেই আজও বাংলার জমিনে রাসুল (সা.)-এর মহব্বত জাগ্রত আছে।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নিয়ে একশ্রেণির মানুষের বিরোধিতা ও অপপ্রচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-কে ভালোবাসার জন্য আশেকে রাসুলদের কোনো দলিলের প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে দেওয়ানবাগ শরীফকে নিয়ে প্রচারিত বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দিয়ে সংশ্লিষ্টদের সরাসরি দরবারে এসে এর কার্যক্রম দেখার আহ্বান জানান তিনি। ইমাম কুদরত এ খোদা বলেন, দেওয়ানবাগ শরীফে শরিয়তের বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয় না।

তিনি আরও বলেন, পীর-মাশায়েখ ও তরিকাপন্থীদের এই সম্মেলনের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। তরিকাপন্থীরা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ভালোবাসায় একত্রিত হয়েছেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দরবারের পীর-মাশায়েখরা বলেন, বর্তমান সময়ে সব ধরনের বিভাজন অতিক্রম করে পীর-মাশায়েখ ও সুফি অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। ইমাম কুদরত এ খোদার উদ্যোগে বিভিন্ন তরিকা ও দরবারের প্রতিনিধিদের এক মঞ্চে আনার উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তারা। ইরানের আল-মুস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন শাহাবুদ্দিন মাশায়েখী রা’দ ইরানের সুফিদের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নিয়ে অপপ্রচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন পালনের বিরোধিতা করেন, তাদের অনেকেই নিজেদের সন্তানদের জন্মদিন পালন করেন।

সম্মেলনে ভারত থেকে আজমীর শরীফের সৈয়দ সালাউদ্দিন চিশতি, হযরত নিজামউদ্দিন আউলিয়া দরগাহের সৈয়দ আনিস নিজামী ও সৈয়দ ফাইজ নিজামী এবং পাকিস্তান থেকে দরগাহে হযরত বাবা গানসকল মাসুদের দিওয়ান আহমেদ মাসুদ, দরগাহে হযরত শাহ জাফর আলির পীর সৈয়দ আমীর হোসেনসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। সম্মেলনে বিশেষ বক্তব্য দেন অষ্টগ্রামের ঐতিহাসিক হাভেলী বাড়ি দরবার শরীফের পীরজাদা সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু। এ ছাড়া বাংলাদেশের মাইজভান্ডার, সুরেশ্বর, শেরে বাংলা, সাইফিয়া, মোহাম্মদীয়া, হাক্কানি, চিশতিয়া পাক পাঞ্জাতন, পরদেশি, সুফি আস্তানা, দয়াময়, নুরে মদিনা, চিশতিয়া নিজামিয়া, করন নগর, মাওলা ভরসা, ছতুরা, ভুলুয়া হায়দারি, মুরারবন্ধ দরবার শরীফ, কুতুবদিয়া পাকসহ বিভিন্ন দরবার শরীফের পীর-মাশায়েখরা সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *